খুলনা-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে পরিচিত। সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসন। এই আসনের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫৬ জন। এরমধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৬৯ জন পুরুষ ও ১ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৭ জন নারী ভোটার। তবে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় ৪১৮ জন নারী ভোটার বেশি।
খুলনা-১ আসনটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন-আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস (নৌকা), জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই আমীর এজাজ খান (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির (এ) প্রার্থী সুনীল শুভ রায় (লাঙ্গল), সিপিবি প্রার্থী অশোক কুমার রায় (কাস্তে) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাওলানা আবু সাঈদ (হাত পাখা)। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বরাবরের মত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সঙ্গে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে।
খুলনা-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে কোনো নির্বাচনেই দলটিকে নিরাশ করেনি ভোটাররা। নিরাপদ বলে এ আসনটিতে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং দুজন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ছয়জন ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চনন বিশ্বাস পেয়েছেন আওয়ামী লীগের টিকিট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন।
উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান দলের জেলা কমিটির সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ। সেই সময় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ‘টেলিভিশন’ মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে শপথ নেন। ২০০১-২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে এ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল।
তবে এ আসনে এবারের নির্বাচনের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক দল এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনীল শুভ রায় (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন করছেন। এছাড়া এ আসনে সিপিবিরও আলাদা প্রার্থী রয়েছে। এই দুই দলের প্রার্থীরা এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তবে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস এবারও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন।
আরো পড়ুন: মঙ্গলের বুকে মানব সন্তান জন্মাবে!
এদিকে খুলনা-১ আসনে অনেকটাই স্বস্তিতে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কুদরত-ই আমীর এজাজ খান। ২০০১ ও ২০০৮ সালে এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। দু’বারই পরাজিত হয়েছিলেন। তবে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা মনে করছেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে এবার ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খানের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। অপরদিকে এ আসনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও সিপিবির বেশ প্রভাব রয়েছে। সে তুলনায় এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। এ আসনের সাধারণ ভোটারদের ধারণা এবার আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ