চিকিত্সকের পদ ৩০ রয়েছেন ৯ জন!

পাবনা মানসিক হাসপাতাল

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিত্সা সেবা

পাবনা প্রতিনিধি

চিকিত্সক সংকটে দেশের মানসিক রোগের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালে (৫০০ শয্যার ‘পাবনা মানসিক হাসপাতাল’) চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিত্সকের অনুমোদিত ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন চিকিত্সক। আছে জনবল সংকট। অন্যদিকে, পুরোনো দোতলা ছাদগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিত্সা কার্যক্রম। জরাজীর্ণ হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক ডা. প্রফেসর তন্ময় কুমার প্রকাশ।

৬২ বছর আগে ১৯৫৭ সালে পাবনা শহরের শীতলাই হাউজে অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয় পাবনা মানসিক হাসপাতাল। এর দুই বছর পর ১৯৫৯ সালে পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে হিমাইতপুরে ১১১ দশমিক ২৫ একর জায়গার ওপরে স্থানান্তর করা হয় হাসপাতালটি। পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিত্সা তত্ত্বাবধায়কসহ ২১টি পদ শূন্য। পদগুলো হলো: দুই জন সিনিয়র কনসালটেন্ট , এক জন ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট, এক জন আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট, পাঁচ জন ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট, চার জন মেডিক্যাল অফিসার, ৩ জন সহকারী রেজিস্ট্রার,  এক জন ডেন্টাল সার্জন, এক জন অ্যানেসথেটিস্ট, এক জন ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট এবং এক জন বায়োকেমিস্ট। এতগুলো পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের ভর্তি রোগীসহ বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিত্সা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত  চিকিত্সকরা। এছাড়াও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের আটটি পদের মধ্যে দুই জন ক্লিনিক্যাল সাইকোলিজিস্ট, এক জন সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার এবং এক জন এসএলপিপির পদ শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৫টি পদের বিপরীতে ২৪টি পদ শূন্য। যার মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ এক জন সিনিয়র নার্স এবং ২২ জন স্টাফ নার্সের পদ শূন্য রয়েছে। এদিকে হাসপাতালে বর্তমানে নতুন-পুরোনো ৪০টি ভবনে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১৯টি। ৫০০ শয্যার মধ্যে ১৫০টি শয্যা অর্থের বিনিময়ে এবং ৩৫০টি শয্যা বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ১৬ নম্বর কক্ষের সিনিয়র নার্স ওয়ার্ড ইনচার্জ মোছা. মল্লিকা খাতুন, সামছুন্নাহার,  সেলিনা খাতুন, কাবেরী রানিসহ অনেকেই জানান, তারা পুরোনো ভবনে চরম ঝুঁকি নিয়ে  চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন। পুরোনো ভবনগুলোর ছাদের বেহাল দশা। মহিলা বৃত্তি বিভাগ, পথ্য বিভাগসহ আটটি ওয়ার্ড ঝুঁকির মধ্যে। হাসপাতালের পরিচালক ড. প্রফেসর তন্ময় কুমার প্রকাশ জানান, প্রাথমিক অবস্থায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ছিলো ৬০টি। এরপর হয় ২০০।  এখন  শয্যাসংখ্যা  ৫০০। লোকবল ২০০ শয্যার সময় যা ছিল, এখনো তাই আছে। তাও আবার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি চিকিত্সক নেই। তাকেও রুটিনওয়ার্কের বাইরে রোগী দেখতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ পাওয়া গেলে  কাজ সমাপ্ত করা হবে।