আসামির সঙ্গে বৈঠক প্রসিকিউটর তুরিনকে অপসারণ

যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বেগম তুরিন আফরোজকে অপসারণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার অপসারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হলো।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত একজন আসামির (ওয়াহিদুল) সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠককালে এ-ও বলেছিলেন যে ওই আসামির বিরুদ্ধে যে মামলা, তার কোনো সারবেত্তা নেই। সেই বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছিল তার টেপ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। ওই টেপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহিত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যে আসামির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে ট্রাইব্যুনাল। এ কারণে তুরিনকে অব্যাহতি দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, তুরিন আসামির সঙ্গে বৈঠক কেন করলেন সেটা বুঝতে পারছি না। এই ঘটনার আগ পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তবে এখানে যদি শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করা হয়, যেটা ট্রাইব্যুনালের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিংবা তার মান ক্ষুণ্ন করতে পারে, তাহলে তো ব্যবস্থা নিতেই হবে।

এনএসআই ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ। গত বছরের এপ্রিল মাসে অভিযোগ উঠে যে, মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ওয়াহিদুল হককে ফোন করে কথা বলেন তুরিন। পরে পরিচয় গোপন করে ঢাকার একটি হোটেলে তার সঙ্গে দেখাও করেন। ওই অভিযোগ ওঠার পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ওয়াহিদুল ও তুরিনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত বছরের ৯ মে মন্ত্রণালয় তুরিন আফরোজকে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ তদন্ত চলে। ওই তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হলো।

‘ফৌজদারি মামলা হতে পারে’

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেছেন, পেশাগত গুরুতর অসদাচারণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে উপমহাদেশে বা আমার জানা মতে বিশ্বের ট্রাইব্যুনালগুলোর মধ্যে প্রথম কোনো প্রসিকিউটরকে অপসারণ করা হলো। তার কৃতকর্মের জন্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।