নিজের ভাগ্য বদলে ব্যস্ত ডিএনসিসির কাউন্সিলর!

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনসেবা বাদ দিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একাধিক কাউন্সিলর। অভিযোগ উঠেছে, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি আর ভূমিদখলের মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সিটি করপোরেশনের বোর্ড সভায়ও তারা অনুপস্থিত থাকেন। নিজেদের মতো করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব গড়তেই বেশির ভাগ সময় পার হয়েছে তাদের। এ কারণে ডিএনসিসির ১৪ কাউন্সিলরকে শোকজ করেছে সংস্থাটি।

তাদের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের উত্তর ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে তারা জানায়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়র অথবা কাউন্সিলর তার স্বীয় পদ হতে অপসারণযোগ্য হবেন যদি তিনি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।

অন্যদিকে, ডিএনসিসির দুই কাউন্সিলর নানা অপরাধের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। তারা হলেন, তারেকুজ্জামান রাজীব ও হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। এর বাইরে বিভিন্ন ক্লাবে জুয়ার আড্ডা ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফার বিরুদ্ধে। এমনকি তার ছেলে রফিকুল ইসলামকে পুলিশ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে। সেসময় মাদক ব্যবসারও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। কাফরুলের বিভিন্ন ফুটপাত থেকে টাকা উত্তোলনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে জামালের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট। এর মধ্যে পশ্চিম কাজীপাড়ায় ৫ তলা ভবন, একই জায়গায় নিউ লাইফ স্কুলের সামনে ২য় তলা ভবন ছাড়াও শেলেটক্ র্যাকেন সিটি অ্যাপার্টমেন্টে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এছাড়া পূর্ব বাইশটেকী, স্বর্ণালি গার্ডেন, জনতা হাউজিং, ইমামনগর ছাড়াও দিগন্ত সমিতি এবং ১০ নম্বর কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে প্লট আছে তার। এছাড়া সাভারে প্রধান সড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য জামাল মোস্তফাকে ফোন দিলে তিনি পরিচয় শুনে কথা বলতে রাজি হননি। এর পর টানা দুই দিন ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নূরুন নাহার আদালতে মামলা দায়ের করে হুমকির শিকার হচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে নূরুন নাহার ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনও করেন নূরুন নাহার। নুরুন্নাহার জানান, পল্লবীর ৫ নম্বর পলাশনগরের স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। তার পলাশনগরে ২০ কাঠা জমি রয়েছে (রেকর্ড মহানগর খতিয়ান নম্বর ১৬৫১, দাগ নম্বর-১৫৬৪২)। কিন্তু ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং তার চাচা হারুন আর রশিদ মিলে জাল দলিল তৈরি করে তার ৯ কাঠা জমি দখল করে নিয়েছেন। পরে ওই জমি কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিক বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় নূরুন নাহার কোর্টে একটি মামলা করেন (পিটিশন মামলা নং ৬৪৩/২০১২), যাতে তিনি নিজের পক্ষে রায় পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কোর্টের রায় সত্ত্বেও ৯ কাঠা জমি না ছেড়ে উল্টো বাকি জমি দখল করে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জাহিরুল বলেন, আমি  ২০১০ সালে জমিটি কিনেছি। যার কাছ থেকে কিনেছি তিনি আমাকে জমি মেপে বুঝিয়ে দিয়েছেন। জাল দলিলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আর এখান থেকে আমি কোনো জমি এখনো বিক্রি করিনি। যেহেতু দেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে, সেজন্য প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রে আমার সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেমের (হাসু) বিরুদ্ধেও মাদক, জবর দখল ও চাঁদাবাজির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার আবুল হাসেম হাসুকে ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৭, ২৪,  ২৭, ৭ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা বিভিন্ন অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।