ঢাকার সমস্ত গ্যাসের পাইপ তুলে নতুন করে বসানো হবে

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, রাজধানী ঢাকার সব গ্যাসের পাইপ তুলে নতুন করে লাইন স্থাপন করা হবে। এজন্য সরকার বৃহত্ পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। এজন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঢাকার সব গ্যাসলাইন উঠিয়ে স্কাটার সিস্টেম বসানো হবে, অটোমেশন করা হবে—যাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামীতে যেন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা যায়। কয়েক মাসের মধ্যেই এটির টেন্ডারও হয়ে যাবে। গতকাল সোমবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৪ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এক প্রশ্নের সম্পূরক জবাবে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান। আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, ৩-৪ বছরের মধ্যে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে।

বাবলার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, এটা সত্য যে ঢাকা শহরের আশপাশে এবং ঢাকা শহরের মধ্যে গত ৫০ বছরের পুরোনো গ্যাস পাইপলাইনগুলো বিদ্যমান। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এ লাইনগুলো  যে পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা উচিত ছিল তা করা হয়নি।

বিএনপির হারুনুর রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিপু বলেন, আমরা বিদ্যুতের সমস্যা যেভাবে সমাধান করেছি, বিশ্বের কোনো দেশে এমন উদাহরণ নেই। ২০০৯ সালে সারাদেশে ৪৭ শতাংশ বিদ্যুত্ ছিল, বর্তমানে ৯৪ শতাংশ। আগামী জুনের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করব। তিনি বলেন, ঢাকায় কোনো ভোল্টেজ ফ্ল্যাকসেশন হয় না, এটা গ্রামে হতে পারে। আমি বলি না শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন হয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ দিতে ৫০ বছর লেগেছে, আমাদের হয়তো ৫০ বছর লাগবে না। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে সংসদে ঢোকার সময়ও আমার হাতে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্ রয়ে গেছে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিদ্যুতের মাস্টারপ্ল্যান করেছি ২০১০ সালে। আমরা গ্যাস ম্যানেজমেন্ট মাস্টারপ্ল্যান করেছি। গ্যাসের অগ্রাধিকার কোথায় সেই অনুযায়ী গ্যাস দেব।

সংরক্ষিত আসনে বিএনপি দলীয় সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হবে কিনা—এমন এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিপু বলেন, আমাদের  কোম্পানিগুলো কী কাজ করবে? এটা কি গ্যাস ড্রিলিং করবে নাকি ম্যানেজ করবে? বাপেক্স শুধু বিনিয়োগ করবে—এ ধরনের কোনো পলিসি বিগত দিনে করা হয়নি। বাপেক্স তিনটা কাজই করে, সে ম্যানেজও করে, বিদেশি কন্ট্রাক্টরকে নিয়োগও করে, নিজে যখন ড্রিলিং করে তখন আমাদের গ্যাসের প্রাপ্তি ১০-১৫ টাকা। একটা ড্রিলিং যদি করি, এটার খরচ পড়ে ১৬ থেকে ২০ মিলিয়ন পর্যন্ত। তিনি বলেন, ৪-৫ বছর আগে পূর্বাচলে গ্যাস পাওয়া গেছে। আমরা দেখলাম এই গ্যাস উত্তোলনে যে পরিমাণ খরচ হবে তাতে ১০ বছরে যে গ্যাস বিক্রি করব তা দিয়ে জীবনেও খরচ উঠবে না। যে কারণে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। তাছাড়া যদি ১০টি ড্রিলিং করি সেটাতে দেখা গেছে দুটিতে গ্যাস পাওয়া গেছে, বাকিগুলোতে পেলাম না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সর্বপ্রথম বাপেক্সে ড্রিলিং মেশিন আনা হয়। আমরা নতুন ও পুরোনো ড্রিলিং মেশিন দিয়ে কাজ করি। বড়ো সমস্যা ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশে নেই। বিজ্ঞাপন দিয়ে দেখেছি এ ধরনের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর সময়ে যে কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার রাশিয়াতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছিলেন তাদের দিয়েই এখনো চলছে বাপেক্স। তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস ফিল্ড বিদেশের গ্যাস ফিল্ডের মতো অত বড়ো গ্যাসফিল্ড না, আমাদের গ্যাসফিল্ডগুলো পকেট গ্যাসফিল্ড।

বিএনপির আরেক এমপি জি এম সিরাজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন গ্যাসের প্রাপ্তি ছিল ৯০০ এমএমসিএফ। পরবর্তীতে হাজার এমএমসিএফ। ৯০০ থেকে চাহিদা বাড়তে শুরু করে। এখন গ্যাস উত্তোলন করছি প্রায় ২৭০০ এমএমসিএফ। ২৬টি কূপ খনন করেছি। ৪৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কূপ খনন করা হয়েছে। গ্যাসের চাহিদা আরো বৃদ্ধি  পেয়েছে। আমাদের যে চাহিদা সেই অনুপাতে গ্যাস উত্পাদন প্রাকৃতিকভাবে পাচ্ছি না। করতেও পারছি না। গ্যাস পেতে হবে তারপর সঞ্চালন করতে হবে। তাই গ্যাসের চাহিদার গ্যাপ পূরণ করার জন্য এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। সেটাও প্রাকৃতিক গ্যাস, ১৬০ ডিগ্রি মাইনাসে লিকুইড করে নিয়ে আসা হয় তারপর গ্যাসিফিকেশন করে গ্যাসের সঙ্গে মিলানো হয়। এরপরও আরো চাহিদা বাড়ছে। দেশে আটটি অর্থনৈতিক অঞ্চল যখন চালু হবে তখন চাহিদা দাঁড়াবে ৬ হাজার এমএমসিএফ। এখন আমদানিসহ দিতে পারছি ৩ হাজার ২০০ এমএমসিএফ গ্যাস। যদি আমদানি না করতাম তাহলে শিল্পবিপ্লব হতো না।

বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসাবাড়িতে যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করি সেই পরিমাণ গ্যাস যদি শিল্পে ব্যবহার করি তাহলে ২০০ লোকের কর্মসংস্থান হয়। তাহলে অগ্রাধিকারটা কোথায়? বাসাবাড়ির গ্যাসের বিকল্প এলপিজি।

১০ হাজার ১৩৯টি শিল্প প্লট বরাদ্দ

এদিকে, বরিশাল-২ আসনের শাহে আলমের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সংসদকে জানান, বিদ্যমান ৭৬টি শিল্পনগরীতে ৫ হাজার ৮৮৩টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ১০ হাজার ১৩৯টি শিল্পপ্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৪৬০টি মালিকানা দ্বন্দ্ব, ব্যবস্থাপনা বিপণন সমস্যা, আর্থিক সংকট, মামলা ইত্যাদি কারণে বন্ধ বা রুগ্ণ অবস্থায় আছে।