রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকনেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার বদলে ফেলার সত্যতা পেয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরুল ইসলামের কন্যা নিগার সুলতানা তার বাবা হত্যার বিচার চেয়ে থানায় এজাহার করতে গেলে তত্কালীন ওসি সাকিল তার সঙ্গে আইনানুগ আচরণ করেননি। উনি মূল এজাহার গ্রহণ না করে কারসাজিমূলকভাবে এজাহার দায়েরের ক্ষেত্রে তার সন্দেহজনক ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া ওসির জবানবন্দিতে সম্পূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণকালে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাহমুদুল হাসান, ডিএসবি মু. মতিউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুঠিয়া সার্কেল) মো. আবুল কালাম সাহিদ ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মহিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ফলে এজাহার কারসাজির বিষয়ে তারাও দায় এড়াতে পারেন না। তাই এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উচ্চ আদালতের কাছে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
গতকাল সোমবার হাইকোর্টে এ রিপোর্ট দাখিল করেন রাজশাহীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তালুকদার। হত্যা মামলার এজাহার বদলে ফেলার ঘটনা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত করেন তিনি। ওই প্রতিবেদনে নিগার সুলতানার দায়েরকৃত এজাহারের কপিকে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য পুঠিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিতে হাইকোর্টের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থানায় এজাহার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে রেকর্ডিং অফিসার কর্তৃক এজহারকারীকে সময় ও তারিখ উল্লেখে প্রাপ্তি স্বীকার প্রদান করতে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা প্রয়োজন।