বেনাপোলে কাস্টমসের ভল্ট ভেঙে স্বর্ণ চুরি

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের গোপনীয় ভল্ট ভেঙে স্বর্ণ, ডলার ও মূল্যবান কাগজ চু?রি হয়েছে। এই ঘটনায় ভল্টের দায়িত্বে থাকা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (পরিদর্শক) এবং চার জন সিপাহিকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় অফিস খোলার পর ভল্টে তালা ভাঙা দেখতে পান কর্মকর্তারা। শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকায় কখন কীভাবে চুরি হয়েছে তা কেউ বলতে পারছেন না। 

সূত্র জানায়, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয়তলায় গোপনীয় লকারের একটি কক্ষ রয়েছে। সেই কক্ষে প্রবেশ করার আগে সংঘবদ্ধ চোরচক্র সিসি ক্যামেরার তার কেটে দেয়। এরপর সেখান থেকে স্বর্ণ, ডলারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। তবে কী পরিমাণ পণ্য খোয়া গেছে তার সঠিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, এআরও জিএম আশরাফ, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান প্রমুখ।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম সোমবার রাতে ইত্তেফাককে জানান, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (পরিদর্শক) শহীদুল সরদার এবং চার জন সিপাহিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে কী পরিমাণ অর্থসম্পদ খোয়া গেছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খতিয়ানের হিসাব মিলিয়ে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব। হিসাব মেলাতে কিছুটা সময় লাগবে।

এ ঘটনায় যশোরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় যুগ্ম কমিশনার শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, কাস্টম হাউজে সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি এলাকায় কীভাবে এ ধরনের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটল তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাস্টম হাউজে নিজস্ব সিপাহিসহ আনসার ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিটও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার কাজে দায়িত্ব পালন করে।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান জানান, বেনাপোল কাস্টমের গুদামে বিকল্প চাবি ব্যবহার করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। কী পরিমাণ পণ্য খোয়া গেছে তার গণনাকাজ চলছে। তবে  সেখানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ছিল বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তত ২০ কেজি স্বর্ণালংকার সেখানে রক্ষিত ছিল।

বেনাপোল কাস্টস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, কাস্টমসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি, ভায়াগ্রা চক্রের অপতত্পরতা ও কাস্টমস কমিশনারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য একটি চক্র এ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ভোল্ট ইনচার্জসহ পাঁচ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।