আকাশি রঙের গল্প

বিদায়ের মুহূর্তগুলো আনন্দের

মাঝে পালন করা হলেও দিনশেষে

বিদায় সত্যটি নির্মম ও বেদনার এমনটায় প্রকাশ পেল। আর হয়তো প্রাণের ক্যাম্পাসে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়া হবে না। নিয়মিত ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও মিডের

দেখা পাব না

  মো. জসিমউদ্দিন

 

বিদায় মানে চিরদিনের জন্য প্রস্থান নয়। জীবনের এক সোপান থেকে অন্য সোপানে পা রাখা। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ ছুটে চলে পথ থেকে পথে। দেখা হয় অচেনা কত না মানুষের সঙ্গে। গড়ে ওঠে নতুন নতুন সম্পর্ক। এভাবেই ছুটে চলে কখনো বছরের পর বছর। কখনো এমন মনে হয় না যে, একদিন তার বিরাজমান অবস্থার ইতি ঘটবে। প্রস্থান ঘটবে এই পথ চলার। বলছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ১১তম আবর্তন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের (এমসিজে৮) ব্যাচের বন্ধুদের কথা।

গত ৩ ও ৮ নভেম্বর ছিল তাদের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান। ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো এমসিজে৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে দুই দিনব্যাপী স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে বন্ধুরা পড়েছিল আকাশি রঙের পোশাক। সমাপনী অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় (সম্প্রীতির৮)। ৩ তারিখ সকালে আহসান মঞ্জিল থেকে  শুরু হয় ফ্ল্যাশ মব, তারপর দুপুরের পর ক্যাম্পাসে এসে আবারও শুরু হয় ফ্ল্যাশ মবের বাকি অংশের কাজ। বন্ধুদের মধ্যে রং ছড়াছড়িতে পুরো ক্যাম্পাস হয়ে যায় রঙিন। এ যেন ভালোবাসার হোলি খেলা। তারপর শান্ত চত্বরে শুরু হয় ফ্ল্যাশ মবের বাকি গানের নাচ। তার সঙ্গে যোগ হলো নাচের দৃশ্য ধারণ। আধুনিক গানের সঙ্গে শেষে যুক্ত হলো দেশাত্মবোধক গান। এভাবে ফ্ল্যাশ মবের মাধ্যমেই শেষ হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান পর্ব। ৪ তারিখ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের কাজ।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কাজ। সবাই গায়ে জড়ানো সাদা রঙের টি-শার্ট। বন্ধুরা একে অপরকে লিখে দিচ্ছে যার যার পছন্দের ভাষাই। এ যেন একে অপরকে লিখে দিচ্ছে এতদিনের জমিয়ে রাখা না বলা মনের কথাগুলো। তাদের ভাষায় যেন প্রকাশ পায় কারো গালি ও কারো বুলি। পরে সবাই চলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে। কেক কেটে শুরু হয় আলোচনা পর্বের কাজ। আলোচনা পর্বে বিভাগের সাবেক  চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. হেলেনা ফেরদৌসী ছিলেন প্রধান আলোচক হিসেবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারা বাংলা ডট নেট-এর ‘এডিটর ইন চীফ’ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। এছাড়াও বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচকেরা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। আলোচনা পর্বের পর এমসিজে৮ ব্যাচের পক্ষ থেকে তাদের সৌজন্য (সম্প্রীতির৮) নামে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এমসিজে৮ ব্যাচের বন্ধুরা তুলে ধরেন ক্যাম্পাস জীবনে কাটানো তাদের স্মরণীর মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ। জুনিয়রদের মধ্য থেকে কেউ কেউ স্মৃতিচারণ পর্বে অংশ নেয়। এভাবেই শেষ হয় আলোচনা পর্বের। দুপুরের খাবারের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্ব। এমসিজে৮ ব্যাচের বন্ধুরা এবং তাদের জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করেন নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক ও মাইমের মতো দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা। বিদায়ের মুহূর্তগুলো আনন্দের মাঝে পালন করা হলেও দিনশেষে বিদায় সত্যটি নির্মম ও বেদনার এমনটায় প্রকাশ পেল। আর হয়তো প্রাণের ক্যাম্পাসে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়া হবে না। নিয়মিত ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও মিডের দেখা পাব না। ক্যাম্পাস জীবন ছেড়ে কেউ যোগ দিবে চাকরিতে। হয়তো দেখা হবে কারো সঙ্গে পথ থেকে পথে। সেদিন ক্যাম্পাস জীবনে কাটানো দিনগুলো থাকবে শুধু বর্ণিল স্মৃতি হয়ে।