মীর মশাররফ হোসেন হল

দ্বিতীয় ঠিকানা দ্বিতীয় পরিবার

  ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, কত মানুষের কত স্বপ্ন কত স্মৃতি যুগ যুগ ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে এবং সেই স্মৃতির পাতা প্রতিদিন বেড়েই চলছে। শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ঠিকানা, দ্বিতীয় পরিবার সবই আবাসিক হলকে কেন্দ্র করে। সাবেক ও বর্তমান যারা হলে থেকেছে তাদের কাছে এই হল জীবনের মূল্য কতটুকু তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভালো বা খারাপ সময় আবাসিক হলে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত সারাজীবন স্মৃতির পাতায় থেকে যায়। থাকবেই না কেন কৈশোর পেরিয়ে জীবনের মূল্যবান ছয়-সাত বছর কাটানো হয় আবাসিক হলের রুমে। এই রুমকে ঘিরে বেড়ে উঠেছে কত স্বপ্ন, স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিয়ে চলে যেতে হয়েছে কতজনকে আবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে সেই রুমেই এসেছে কতজন একথা আবাসিক হলের ইট পাথর ছাড়া আর কেউ হয়তো বলতে পারবে না।

কলেজ জীবনের পর প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন থাকে কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আবাসিক হলে থাকার। আমাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ নেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে এবং বাড়ির পর নিজের দ্বিতীয় ঠিকানা হয় মীর মশাররফ হোসেন হল নামক লাল ইটের স্বর্গে। অচেনা পরিবেশ অচেনা মানুষ, কিন্তু সেই মানুষ আর পরিবেশ বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, নতুন কাউকে আপন করে নিতে খুব বেশি সময় নেয় না। বন্ধু বা সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্কগুলো একবারের এক দেখায় হয়ে যায়। হল থেকে ক্লাস করতে যাওয়াটা রীতিমতো এক মহাজজ্ঞ, ব্যাচের সবাইকে ডেকে একত্র ক্লাসে যাওয়া হয় ক্লাস শেষে, হলে ফেরার পর্বটাও একই রকম। হলের রুম বা ছাদ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, গান তো নিত্যদিনের ব্যাপার। রুমমেট বা ক্লাসমেট, সিনিয়র-জুনিয়র একজনের বিপদে আরেকজন খুব সহজেই এগিয়ে আসে—এ যেন পরিবার রেখে এসে আরেকটি পরিবার পাওয়া। পরিবারের এক সদস্য যেমন-অসুস্থ হলে অন্য সদস্য এগিয়ে আসে হলের সম্পর্কগুলোও ঠিক তেমন। আড্ডা, গান বা প্রিয় দলের খেলা দেখতে পরিবারের সকল সদস্য ভিড় করে কমন রুমে। নিজের দেশের খেলা হলে কমন রুম পরিণত হয় মিনি স্টেডিয়ামে। সে আনন্দ উল্লাস না দেখলে বিশ্বাসযোগ্য নয়, জিতলে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে সবাই একসঙ্গে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, হলের প্রতিটি স্টাফ কর্মচারী তারাও কখন যে আপন হয়ে যায় বলা মুশকিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই লাল ইটের স্বর্গের এক মুক্ত আকাশ ও সকাল-বিকালে পাখির কলতানে প্রকৃতির সঙ্গে প্রেম হয়, বন্ধুত্ব হয়, ভালোবাসা হয়,                হয় স্বপ্ন বোনা ও স্বপ্ন গড়া আর স্মৃতিগুলো জমা হয় লাল ইটের ভাঁজে ভাঁজে।              চতুর্থ বছর পেড়িয়ে পঞ্চম বছরে আর হয়তো খুব বেশি দিন এখানে থাকার সুযোগ নেই কিন্তু মনের গহীনে আজীবন থেকে যাবে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রতিটি মুহূর্ত।

অনেকটা নিজের অজান্তেই হলের জীবনকে সবাই আপন করে নেয়। পরিবার আত্মীয়স্বজন থেকে দূরে থাকলে তাদের কথা মনে পড়া খুব স্বাভাবিক, কিন্তু পরিবারের কথা মনে হলেও পরক্ষণেই হলের পরিবেশ বন্ধু সিনিয়র-জুনিয়র থেকে শুরু করে  স্টাফ, দোকানদার বা ক্যান্টিন বয় কেউ নিজের দ্বিতীয় পরিবারের অংশ মনে হয়।