যুদ্ধ জয়ে অনন্য ফাহিরন

  মাহবুব নাহিদ

 

মানুষ যখন সফলতা পেতে শুরু করে তখন হয়তো চারদিক দিয়েই সফলতা আসতে শুরু করে। মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই দেশকে অনেকগুলো সুসংবাদ শুনিয়েছেন ড. ফাহিরন হান্নান। পড়েছেন ডেন্টাল মেডিক্যালে কিন্তু কাজ করছেন ডায়াবেটিস নিয়ে। তার স্টার্টআপ ঢাকা কাস্ট এখন পৌঁছে গেছে বিভিন্ন প্রান্তে। তিনি চলার পথে অনেকগুলো ভালো মানুষ পেয়েছেন যারা তার পথচলাকে করেছে আরো সুগম। শুনে নেওয়া যাক তার গল্পটা। ফাহিরন তার এসএসসি পড়াশোনা করেন চট্টগ্রাম বাওয়া স্কুল থেকে আর এইচএসসি সম্পন্ন করেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। ছোটোবেলায় তিনি শিল্পকলা একাডেমি থেকে নাচের শিক্ষা লাভ করেন। বিভিন্ন জায়গায় বিতর্কে অংশ নেন তিনি। ছিল একটি নাচের স্কুল। অংশ নিয়েছিলেন নতুন কুঁড়িতেও।

২০০৭ সালে তিনি স্যাপোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে বিডিএস সম্পন্ন করেন। নর্থ সাউথ থেকে করেন মাস্টার্স অফ পাবলিক হেলথ। ২০১১ সালে তিনি ইউকে ডেন্টালে ডেন্টিস্ট হিসেবে প্রাকটিস শুরু করেন। এরপর লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মার্কস ডেন্টাল কলেজে। একজন ডেন্টিস্ট হয়েও এসব করে তিনি কোনো শান্তি পাচ্ছিলেন না। তার মনের বাসনা যেন পূর্ণ হচ্ছিল না। এরপর তিনি কাজ করেন সাইবার ক্রাইম নিয়ে। মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের সাইবার সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করেন। পরিচয় হয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে। শাওন তার জীবনে সুখ-দুঃখের একজন বড়ো সাথী হয়ে ওঠেন। তাকে সবসময় দিকনির্দেশনা দেন। তবে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয় রাজিব আহমেদের সার্চ ইংলিশ গ্রুপ। ইংরেজি শেখার জন্য তিনি এই গ্রুপের সঙ্গে জড়িতে হন ২০১৭ সালে। সেখানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন উদ্যোক্তা পত্রিকা পড়ে নিজেই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখেন। এই রাজিব আহমেদ তার জীবনের অন্যতম একজন মেন্টর হিসেবে কাজ করেন। এখান থেকেই তার ধারণা হয় স্টার্টআপ সম্পর্কে। এই স্টার্টআপ যখনই তার মাথায় আসে তখনই তিনি নিজেই কিছু একটা করার চিন্তায় বিভোর হয়ে যান।

তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গড়ে তোলেন ঢাকা কাস্ট। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রা শুরু হয় এর। ডায়বেটিস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলা, বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে শুরু করে তার প্রতিষ্ঠান। ঐ বছরই ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান সবুর খানের উপস্থিতিতে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইভেন্টের মাধ্যমে শুরু হয় তাদের পথ চলার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ২০১৯ সালের মার্চ মাসে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে যাত্রা শুরু করান তার প্রডাক্ট সার্ভিসের। তাদের ঢাকা কাস্ট বাড়িতে নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট, ডাক্তারের অনলাইন কনসালটেন্সি দেওয়া শুরু করেন। এর দ্বারা তিনি মানুষের সেবার পাশাপাশি কিছু ডাক্তারকেও কাজ করার সুযোগ করে দেন।

এপ্রিল মাসে তিনি নির্বাচিত হন গ্রামীণফোন এক্সিলারেটর প্রোগ্রামের কমিউনিটি বিল্ডার হিসেবে। স্টার্টআপ নেটওয়ার্কিং-এর কাজ করেন ঢাকার উত্তরা জোনে।