মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে মঠবাড়িয়ার ১১ ইউনিয়নের আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বর্ষণ আর জোয়ারের প্লাবনে ফসল নেতিয়ে পড়ে দু-তিন ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ঠুটাখালী গ্রামের কৃষক সঞ্জীব চন্দ্র গোমস্তা জানান, তিনি দেড় একর জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে। তার আবাদি মাঠের ধানে কেবল ফলন ধরেছিল। এসব এখন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের কৃষক নূরুল আমীন রাসেল জানান, কৃষিজমির মাঠ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। পানি অপসারণের কোনো উপায় নেই। কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও অতিজোয়ারের প্লাবনে ফসল বিনষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, এ ক্ষতি প্রাকৃতিক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্থসহায়তার পাশাপশি ধান, গম, সরিষা ও মুগ ডাল সরবরাহ প্রয়োজন হবে। সেইসঙ্গে কৃষকের কাছ থেকে এবার ন্যায্যমূল্যে ধান কেনা জরুরি।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে মহেশপুরে উঠতি
ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে মহেশপুরে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মহেশপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলায় এ বছর আমন ধানের চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ১৩০ হেক্টর, কলা ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর, তুলা ৮০ হেক্টর, সবজি ৯৮১ হেক্টর, সরিষা ১০ হেক্টর, মসুরি ৫ হেক্টর, মুগ ৩৭ হেক্টর এবং কলাই ১০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দমকা ঝড়ে কলাগাছ ভেঙে গেছে, আমন ধান পড়ে মাটির সঙ্গে মিশে আছে। তুলাগাছ ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে আছে, উঠতি মাসকলাই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। চাষিরা এই ক্ষতি পূরণে পুনরায় নতুন করে মসুরির চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে এ উপজেলায় উঠতি ফসলের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা সঠিকভাবে এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মেহেরুননেছা বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানাব।’