পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে

 রেজাউল হক কৌশিক

দীর্ঘদিন ধরেই পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আবার এসব পণ্য রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, গত অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ৮১ কোটি ৬২ লাখ ডলার আয় হয়েছিল। কাঁচা পাটের পাশাপাশি পাটের তৈরি সুতা ও কুন্ডলী, পাটের বস্তা ও ব্যাগ, ম্যান মেইড ফিলামেন্টস এবং স্ট্যাপল ফাইবারস পাট ও পাটজাত পণ্য হিসেবে রপ্তানি হয়।

দেশে জুট প্যাকেজিং অ্যাক্ট করার পর দেশে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের ব্যবহার বাড়ছে। অন্যদিকে উত্পাদন বাড়ার কারণে রপ্তানিও বাড়ছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে বড়ো অংশের ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। পাট ও পাটজাত পণ্য উত্পাদন ও রপ্তানি বিষয়ে পাঁচটি সংগঠন থাকলেও সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পাটজাত পণ্যের প্রায় অর্ধেকই রপ্তানি হয়।

বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসি-য়েশনের সদস্যরা বলছেন, পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে মিল মালিকরা ভর্তুকি পেলেও আমরা কোনো ভর্তুকি পাই না। এ সংগঠনের সদস্যদের ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিলে রপ্তানিতে তা আরো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও বড়ো অংশ পাটপণ্য রপ্তানি করেন। এ সংগঠনটি বলছে, বর্তমান সরকারের সময়ে পাটের অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার আইন করে ১৭টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহারে চাহিদা বেড়েছে।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যেসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ  পাট খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুট প্যাকেজিং অ্যাক্টের মাধ্যমে প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কারণে উত্পাদন বেড়েছে এবং পাটচাষিরা ভালো মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারছেন।

পাট খাতের সঙ্গে সংশি­ষ্টরা বলছেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় পোশাক খাত থেকে হলেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির গুরুত্ব অনেক বেশি। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, পোশাক খাত থেকে অর্জিত রপ্তানি আয়ের বড়ো অংশ চলে যায় কাঁচামাল আমদানিসহ কনসালট্যান্সি ফি ও অন্যান্য সেবা বাবদ। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আয়ের পুরো অংশই দেশে থেকে যায়। তাই এ বিষয়ে সরকার ও পাট খাতের সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। পাট ও পাটজাত পণ্য উত্পাদন যেহেতু শ্রমঘন তাই এ খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বড়ো ভূমিকা রাখতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাজারে শপিংব্যাগের বার্ষিক চাহিদা ৫ হাজার কোটি পিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৯ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ প্ল­াস্টিক ব্যাগ ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা আমাদের পাটশিল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এজন্য পাটপণ্যের জন্য রিফাইন্যান্সিং ফান্ড বা গ্রিন ফান্ডের আওতায় ঋণ সুবিধা প্রদান, প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল বাড়াতে পারলে তা পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য সুবিধাজনক হবে। ইপিবির তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের চার মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। এ সময়ে পাট সুতা ও কুণ্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৯ কোটি ২৭ লাখ ডলার। পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের এবং পাটজাত অন্যান্য পণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। পাট ও পাটপণ্য রপ্তানির বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) বলছে, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাট পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতে প্রায় ২০০টি পাটকল আছে।