তা হ মি না মি লি
‘মিডওয়ে’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পার্ল হারবারে জাপানি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পটভূমিতে। এছাড়া সেই বিশ্বযুদ্ধের নানা ঘটনাও উঠে এসেছে এই হলিউডি মুভিটিতে। বড় বাজেটে নির্মিত, বিখ্যাত অনেক তারকা অভিনয়শিল্পী অভিনয়সমৃদ্ধ ‘মিডওয়ে’ গত ৮ নভেম্বর মুক্তি পেয়ে এরমধ্যে বক্স অফিসে ভালো সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এড স্কেরেইন, প্যাট্রিক উইলসন, লুক ইভানস, উডি হারেলসন, নিক জোনাস, ডেনিস কোয়াইড, অ্যারন একহার্ট, ম্যান্ডি মুর প্রমুখ। ‘মিডওয়ে’র অন্যতম একটি নারী চরিত্র অ্যানি বেস্ট-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ম্যান্ডি মুর। ৩৫ বছর বয়সী এ সুন্দরী গায়িকা, গীতিকার ও অভিনেত্রীর আসল নাম আমান্দা লেই মুর। আমেরিকার নিউ হাম্পশায়ারের মেয়ে ম্যান্ডি মুর একাধারে গানের ভুবনে সাড়া জাগানোর পাশাপাশি অভিনেত্রী হিসেবেও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে খ্যাতি, জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে গেছেন আরো আগেই। ১৯৯৯ সালে বিখ্যাত এপিক রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন ডেব্যু সিঙ্গেল ‘ক্যান্ডি’ বাজিমাত করার কারণে। বিলবোর্ড হট হান্ড্রেড-এর ৪১তম অবস্থানে পৌঁছে যায় গানটি। তার ডেব্যু স্টুডিও অ্যালবাম ‘সো রিয়্যাল’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। যা প্ল্যাটিনাম সার্টিফিকেট লাভ করে। তার দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবামের টাইটেল সিঙ্গেল ‘আই ওয়ানা বি উইথ ইউ’ বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এরপর লাগাতার সাফল্য গায়িকা হিসেবে বেশ ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে তাকে। এ প্রসঙ্গে তার ধারাবাহিক সফল স্টুডিও অ্যালবামগুলোর কথা আলোচনা করতে গেলে ‘ম্যান্ডি মুর’, ‘কাভারেজ’, ‘ওয়াইল্ড হোপ’, ‘আমন্দা লেই’ প্রভৃতির কথা বলা যায়। ২০০৯ সালে বিলবোর্ড-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী তার দশ মিলিয়নেরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে। সিনেমায় ম্যান্ডি মুরের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০০১ সালে ‘ডক্টর ডলিটেল টু’তে ছোট্ট একটি রোলে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে। কমেডি সিনেমা ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’ লাল থমাস চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন। এরপর তাকে দেখা যায় রোমান্টিক ড্রামা সিনেমা ‘অ্যা ওয়াক টু রিমেম্বার’-এ। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবিতে জেমি সুলিভান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আরো কাছাকাছি পৌঁছে যান দর্শকদের। এরপর ‘চেজিং লিবার্টি’, ‘রেসিং স্টিপস’, ‘বিকজ আই সেইড সো’, ‘লাইসেন্স টু ওয়েড’, ‘লাভ ওয়েডিং ম্যারেজ’, ‘ফোরটি সেভেন মিটারস ডাউন’, ‘দ্য ডার্কেস্ট মাইন্ডস’ প্রভৃতি সিনেমায় সুঅভিনয়ের স্বাক্ষর রেখে একজন শক্তিশালী অভিনেত্রীর পরিচয়টি প্রতিষ্ঠিত করেছেন ম্যান্ডি মুর। ‘মিডওয়ে’তে একজন আমেরিকান বিমান সেনা লেফট্যানেন্ট রিচার্ড ডিক বেস্টের স্ত্রী অ্যানি বেস্টের চরিত্রে ম্যান্ডি মুরের চমত্কার অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছে। সবাই তার দুর্দান্ত অভিনয়ে মুগ্ধ। নিজের অভিনীত নতুন সিনেমা ‘মিডওয়ে’ নিয়ে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি অনুভব করছেন ম্যান্ডি। ‘ছবিটিতে আমি এক বিমান সেনার স্ত্রী সেজেছি। অভিনয়ের সময় অভিনীত চরিত্রে ডুবে গিয়েছিলাম। মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করেছি। যখন গান গাই কিংবা অভিনয় করি, কাজটা যথাসাধ্য ভালোভাবে করতে আপ্রাণ চেষ্টা করি। ফলে কাজে সাফল্য পেয়ে যাই। এখন ‘মিডওয়ে’ ছবির সাফল্য আমাকে বেশ উদ্দীপ্ত করেছে,’ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন।