বাক প্রতিবন্ধী তরুণীর ভূমিকায়

রে জা উ ল  ক রি ম  খো ক ন

 

২০১০ থেকে ২০১৯। এই নয় বছরে অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া নিজের উত্তরণ ঘটিয়েছেন অনেকটা। ২০১০-এ ডিজনি ইন্ডিয়া চ্যানেলে শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। ঐ শিশুতোষ টিভি চ্যানেলের ‘বিগ বড়া বুম’ শোতে প্রথম কাজ করেছিলেন। এরপর ঐ চ্যানেলেরই সিটকম ‘দ্য সুইট লাইফ অব করণ’ ও ‘ওয়ে জেসি’তে অভিনয়ের সুবাদে ঘরে ঘরে প্রিয়মুখে পরিণত হয়েছিলেন। তখন তার বয়স ছিল অনেক কম। তেরো-চৌদ্দ হবে। এখন তারা সুতারিয়া এক সুন্দরী তরুণী। এ বছরেই বলিউডে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয়েছে তার। ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার টু’তে তাকে দেখা গেছে দুই নায়িকার একজন হিসাবে। প্রথম অভিনীত সিনেমাতেই দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন তিনি। সিনেমাটিতে মিয়া মৃদুলা চাওলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ২৩ বছর বয়সী তারার জন্ম এক পারসি পরিবারে। পিয়া নামে তার আরেক যমজ বোন রয়েছে। দুই বোন ইংল্যান্ডে রয়্যাল একাডেমি অব ড্যান্সে ক্লাসিক্যাল, ব্যালে, মডার্ন, ল্যাটিন আমেরিকান ও ওয়েস্টার্ন ড্যান্সের তালিম নিয়েছেন। সাত বছর বয়স থেকে একজন পেশাদার গায়িকা হিসেবে বিভিন্ন অপেরা ও প্রতিযোগিতায় গাইছেন। নাচ ও গানে নিজেকে ভালোভাবেই সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি সেন্ট অ্যান্ড কলেজ অব আর্টস, সায়েন্স অ্যান্ড কমার্স থেকে মাস মিডিয়া বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিও নিয়েছেন তারা সুতারিয়া। হলিউডের ফ্যান্টাসি মুভি ‘আলাদিন’-এ প্রিন্সেস জেসমিন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দুজন অভিনেত্রীর একজন হিসেবে মনোনীতও হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলিউড অভিনেত্রী নাওমি স্কটকে কাস্ট করা হয়। বলিউডে তারা সুতারিয়ার অভিষেক হয়েছে করণ জোহরের মতো একজন প্রভাবশালী চিত্রনির্মাতার হাত ধরে। প্রথম অভিনীত সিনেমাতেই চমত্কার পর্দা উপস্থিতির সুবাদে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। প্রথম অভিনীত সিনেমাটি বক্স অফিসে মোটামুটি ভালো সাফল্য পাওয়ায় একজন নতুন মুখের অভিনেত্রী হিসেবে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি। এরকম অবস্থায় প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে তার অভিনীত সিনেমা ‘মারজাভা’ আসছে। অ্যাকশন-রোমান্টিক ধাঁচের সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেছেন রাকুল প্রীত সিং, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, রিতেশ দেশমুখ প্রমুখ। এর মধ্যে ‘মারজাভা’র ট্রেলর কয়েকটি গান ইউটিউব ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারের সুবাদে তারা সুতারিয়া দর্শকদের মনোযোগ নতুন করে আকর্ষণ করেছেন। এ সিনেমায় একজন বাক প্রতিবন্ধী তরুণী জোয়ার চরিত্রে রূপদান করেছেন তিনি। ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার টু’তে তাকে যে ধরনের ইমেজে দেখা গিয়েছিল এবারের সিনেমাটিতে তার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চরিত্রে দেখা যাবে। এখানে তার মুখে কোনো সংলাপ নেই। সম্পূর্ণভাবে অভিব্যক্তি ও ইশারা ভাষার মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে হয়েছে। কাজটি নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল তার মতো একজন নবীন অভিনেত্রীর জন্য। এ প্রসঙ্গে তারা সুতারিয়া বলেন, ‘আমার জেনারেশনের অভিনেত্রীরা সাধারণত গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয়ে মনোযোগী বেশি। অথচ মধুবালা, মিনা কুমারী, নূতনের মতো কিংবদন্তি নায়িকারা তাদের অভিনয়ে অভিব্যক্তিকে বেশি জোর দিতেন। ‘মারজাভা’তে আমি একজন বোবা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এর জন্য আমাকে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ রপ্ত করতে হয়েছে। বোবারা যেভাবে ইশারা ভাষায় তাদের মনের অনুভূতি, আবেগ, চাওয়া-পাওয়ার কথা প্রকাশ করে আমাকেও তেমন করতে হয়েছে। কাজটা ছিল দারুণ চ্যালেঞ্জিং। আমি কতটা ভালো খারাপ করেছি, তা বিচার করবে দর্শক।’ আগামীতে তারা সুতারিয়াকে ‘তাদাপ’ সিনেমায় দেখা যাবে নায়িকার ভূমিকায়। এ সিনেমায় সুনীল শেঠির ছেলে আহান শেঠির বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি।