ট্যাম্পারিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ পুরান

yআফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বল ট্যাম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান নিকোলাস পুরানের বিপক্ষে। তিনি সে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। ফলে তাকে চারটি টি-টোয়েন্টির জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

পুরানের বিপক্ষে এই অভিযোগ গঠনের পর তিনি অপরাধ স্বীকার করে নেন। আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী এটা ‘লেভেল-৩’ মানের অপরাধ। ফলে ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড তার বিপক্ষে এই শাস্তি ঘোষণা করেন। বলা হয়, পুরান আচরণবিধির ২.১৪ ধারা, যে ধারায় বলের অবস্থা পরিবর্তনের অপরাধের কথা বলা হয়েছে, তা লঙ্ঘন করেছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে পুরান তার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বল ঘষে আকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।

পুরানের বিপক্ষে এই অভিযোগ আনেন প্রথমে মাঠের দুই আম্পায়ার বিসমিল্লাহ শিনওয়ারি ও আহমেদ দুরানি। এরপর তৃতীয় আম্পায়ার আহমেদ পাকতিন ও চতুর্থ আম্পায়ার ইজাতুল্লাহ সাফিও এই অভিযোগ আনেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে খেলতে পারবেন না পুরান। তিনি মিস করবেন ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটিও। আগামী ৮ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে থিরুভানাথাপুরামে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাওয়া যাবে তাকে। এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পুরানের নামের পাশে পাঁচটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হলো।

পুরান বলেছেন, তার এই আচরণ নিজের বিচারের একটা ভয়ানক ভুল ছিল। তিনি এই ধরনের আচরণ আর কখনো করবেন না বলে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ‘আমি লখনৌতে মাঠে যে কাজ করেছি, সে জন্য আমার সতীর্থ, সমর্থক ও আফগানিস্তান দলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমি নিজের বিচারে দারুণ একটা ভুল করে ফেলেছি। আমি আইসিসির শাস্তি পুরোপুরি মেনে নিচ্ছি। আমি সবাইকে নিশ্চিত করতে চাই, এটা একবারই ঘটেছে এবং এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এরপর আর কখনো এটা হবে না। আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, এই ঘটনা থেকে আমি শিক্ষা নেব এবং আরো শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হয়ে ফিরে আসব।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে। তৃতীয় ম্যাচে ৮ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে তারা। এই সিরিজ পুরানের ব্যাট হাতে খুব ভালো গেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি ৫০ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আশা করছিল, তিনি টি-টোয়েন্টিতে দলের উইকেটরক্ষণ করবেন। কিন্তু এখন সেই কাজটা করতে হবে দিনেশ রামদিনকে। তিনি স্কোয়াডে ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক হিসেবে ছিলেন।