প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর সরকার ২০২১ সাল নাগাদ সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সারা দেশের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে সক্ষম হবে। গতকাল বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সাতটি নতুন বিদ্যুেকন্দ্র এবং ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, মুজিববর্ষ উদ্যাপনের মধ্যে আমরা শতভাগ বিদ্যুত্ দিতে সক্ষম হব। কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে।’
উদ্বোধন হওয়া সাতটি বিদ্যুেকন্দ্র হচ্ছে শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, কর্ণফুলী ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, পটিয়া ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট, তেঁতুলিয়া ৮ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুেকন্দ্র এবং গাজীপুর ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র। শতভাগ বিদ্যুতায়িত ২৩ উপজেলা হচ্ছে বগুড়া জেলার গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ; চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা; ফরিদপুর জেলার মধুখালী, নগরকান্দা, সালসা উপজেলা; গাইবান্ধার ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলা; হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও হবিগঞ্জ সদর; ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলা; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা; নাটোর জেলার বরাইগঞ্জ, লালপুর ও সিংড়া উপজেলা; নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং পিরোজুরের ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানি। বিদ্যুত্ বিভাগের তথ্যমতে, এই বিদ্যুেকন্দ্রগুলো উদ্বোধন এবং উপজেলাগুলোতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা এখন হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। পাশাপাশি দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ২৩৪টিতে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলো। আরো ১২৭টি উপজেলায় শিগগিরই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে, যেগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া বাকি ১০০ উপজেলায় আগামী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদ্যাপনকালে বিদ্যুতায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলোকিত করাই আমাদের কাজ এবং সেটাই আমরা করে যাচ্ছি। যেখানে বিদ্যুতের গ্রিড লাইন পৌঁছায়নি, সেসব প্রত্যন্ত পাহাড়ি, হাওর ও চরাঞ্চলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সরবরাহ করে সারাদেশে এই বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’ বিদ্যুত্ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার তার পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুত্ উত্পাদনে আমাদের যে খরচ হয়, এর চাইতে অনেক কম অর্থে আমরা তা সরবরাহ করে যাচ্ছি।’ তিনি এ সময় বিএনপি আমলে দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বিদ্যুত্ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে তার সরকার দেশে বিদ্যুত্ পেয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। পরবর্তী পাঁচ বছরে তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট করে রেখে গেলেও ২০০১-পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরবর্তী পাঁচ বছরে দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদন এক মেগাওয়াটও বাড়াতে পারেনি। উপরন্তু, তা কমিয়ে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে বিদ্যুেক বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াসহ একের পর এক বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে তার সরকার বিদ্যুেক আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব, এই বিদ্যুত্ ব্যবহারে আপনারা সাশ্রয়ী হবেন। বিদ্যুতের অপচয় যেন না হয়। বিদ্যুত্ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে আপনাদের বিদ্যুতের বিলটাও কম আসবে।’
ডেপুটি স্পিকার ফজলে বাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান সরকার গণভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুত্ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর, নাটোর, পিরোজপুর ও খুলনা জেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে একটি পৃথক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘শেখ রাসেল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপ টেনিস টুর্নামেন্ট-২০১৯’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।