‘সিগন্যাল দেখতে সমস্যার কথা তিন মাস আগেই জানানো হয়’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ রেল স্টেশনের আউটার সিগন্যাল দেখতে সমস্যার বিষয়টি সাড়ে তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী (লোকোমাস্টার)।

অপর দিকে রেল সূত্র জানিয়েছে, তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন ঘটনার পর রেলওয়েরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি মন্দবাগ স্টেশনের সিগন্যাল দেখতে পাননি। তিনি স্বীকার করেছেন অতি সর্তক হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তবে তাছের উদ্দিন             বলেন, তিনি এবং তার সহকারী লোকোমাস্টার অপু দের বিরুদ্ধে ঘুমের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। কারণ কুমিল্লা রেল স্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি তারাই থামিয়েছিলেন। আর কুমিল্লা থেকে মন্দবাগ স্টেশন খুব একটা দূরে নয়।

সোমবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মাঝামাঝি বগিতে ঢুকে পড়ে। এ সংঘর্ষের পর তূর্ণা নিশীথার একাধিক বগি উদয়নের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায়  ১৬ জন নিহত হন, আহত হয়েছেন শতাধিক।

ঘটনার পর পরই তূর্ণার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও গার্ড আব্দুর রহমান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আর দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিন জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিনের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তাছের উদ্দিন ও সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে আহত হয়েছেন। তারা চিকিত্সাধীন রয়েছেন। 

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, মন্দবাগ রেল স্টেশনের সিগন্যালের সমস্যা বেশ কয়েক মাস ধরে। এ ব্যাপারে তিনি ৩১ জুলাই মন্দভাগ রেল স্টেশনে রিপিটার সিগন্যাল বসানোর জন্য লিখিতভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নাসির উদ্দিনকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেননি। তিনি বলেন, যখন অভিযোগ দিয়েছিলাম ঐ দিন জিএমের দপ্তরে রেলওয়ের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।