সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, দুই দেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি আগামী মাসে মিয়ানমার সফরে যাবেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী সব সময় দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করে। কাজ করে সরকারের সহায়ক হিসেবেও। সরকারের যে পলিসি থাকে, তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও আমাদের কাজ। তাই দুই দেশের সামরিক বাহিনীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা হবে।’
সেনাপ্রধান যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাঁচটি ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘৩১ বছর ধরে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনাসদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামীতেও আন্তর্জাতিক চাহিদার আলোকে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ব্লু হেলমেটের আওতায় মাইন ক্লিয়ারিংয়ের জন্য সৌদি আরবে যাবেন সেনাসদস্যরা। আর সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সরকারকে যেকোনো প্রয়োজনে সব রকম দায়িত্ব প্রদানে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’
যশোর সেনানিবাসের সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল প্রাইভেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অত্যাধুনিক ও বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। আর কোনো প্রশিক্ষণই ফলপ্রসূ হবে না, যদি আমাদের মৌলিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি থাকে। প্রশিক্ষণ ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ‘বেসিক সোলডারিং’-এর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখবেন, প্রশিক্ষণই সর্বোচ্চ কল্যাণ।”
সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে আজ প্রথমবারের মতো কোনো সিগন্যাল ইউনিট রেজিমেন্টাল কালার অর্জন করল, যা এক সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন তথা কোর অব সিগন্যালসের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সিগন্যাল ইউনিট সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন। ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ‘অপারেশন আলোর সন্ধানে’ এবং ‘অপারেশন নবযাত্রা’সহ অর্পিত সব দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পালন করেছে।
সেনাপ্রধান বলেন, রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তি যেকোনো ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান ও পবিত্র আমানত। আজ সেই রেজিমেন্টাল কালার এই পাঁচটি ইউনিটের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই বিরল সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় ইউনিটসমূহকে তিনি আন্তরিক অভিন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি তার মর্যাদা রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আপনারা সব সময় সচেষ্ট থাকবেন।’
সেনাবাহিনীর প্রধান বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে মাইন অপসারণে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ থেকে সেনাসদস্য মোতায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৭০০ জনবলের দুটি ডি মাইনিং ব্যাটালিয়ন এবং বিএমসি সদর দপ্তরের সঙ্গে ১৮ জন জনবল সৌদি আরবের জাযান ও নাজরান এলাকায় নিয়োজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ইউনিটসমূহ কর্তৃক সেনাবাহিনী তথা দেশমাতৃকার সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ১২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩৬ এডি রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ১ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন কালার প্যারেডে অংশগ্রহণ করে এবং প্রধান অতিথির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান ছাড়াও কোর অব আর্টিলারি, ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগন্যালসে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাগণ, সেনাসদর ও বিভিন্ন ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ এবং অসমারিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।