রূপপুরে দুর্নীতির অনুসন্ধানে এবার দুই ঠিকাদারকে তলব

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে এবার দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—ঠিকাদার শাহাদাত হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাজিন এন্টারপ্রাইজ ও মজিদ সন্স লিমিটেড। গতকাল বুধবার কমিশন থেকে ঐ দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তাদেরকে আগামী ২০ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে এ দুর্নীতির অনুসন্ধানে আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী গণপূর্ত জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী (স্টাফ অফিসার) তানজিলা শারমীন এবং গণপূর্ত বিভাগ পাবনার সহকারী প্রকৌশলী (স্টাফ অফিসার) মো. রুবেল হোসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হবার কথা।

দুদক সূত্র জানায়, রূপপুরে ছয় প্যাকেজে মোট ১৪৬ কোটি টাকার মধ্যে সাজিন এন্টারপ্রাইজ তিনটি কাজ পেয়েছে। একটি কাজ পেয়েছে মজিদ সন্স লিমিটেড। সাজিন এন্টারপ্রাইজের তিনটি কাজের মধ্যে একটি ২৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার বিল গত বছরের অক্টোবরে পরিশোধ করা হয়েছে। তহবিল সংকটের কারণে অন্যরা বিল নিতে পারেনি। তবে এখন মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে বিল দিতে নিষেধ করেছে। কমিশন সূত্র আরো জানিয়েছে, ২৯ জনের জিজ্ঞাসাবাদে এ পর্যন্ত সরকারের ৩৬ কোটি টাকা ক্ষতির তথ্য পেয়েছে কমিশন।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের আসবাবপত্র ও অন্যান্যসামগ্রী অস্বাভাবিক দামে কেনা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদকের উপপরিচালক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল। অপরদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র প্রকল্পে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪ জন কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। গত ২৭ জুলাই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।