আধুনিক প্রযুক্তির যুগ, দৃশ্যমান সবকিছুর বাইরেও কিছু খবর প্রযুক্তির বদন্যতায় পাওয়াই যায়। দুই দলেরই পরস্পরের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তারপরও অন্দরমহলের রহস্যের কূল-কিনারা সবসময় করা যায় না। ভারতীয় ড্রেসিংরুমের শক্তি বহর বেশ সুসজ্জিত। সে তুলনায় টেস্ট ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশ বড়ো নাম নয়।
ভারত র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল, বাংলাদেশ রয়েছে নয় নম্বরে। হোমগ্রাউন্ডে ভারত অপ্রতিরোধ্য। স্বাগতিকদের ড্রেসিংরুমে বিশ্বসেরা সব অস্ত্র। শেষ সিরিজেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাস্তানাবুদ করেছে ভারত। আর বাংলাদেশ এসেছে আফগানদের কাছে হেরে। দলে নেই সাকিব-তামিমের মতো পরীক্ষিত নির্ভরতা। ইন্দোর টেস্টের আগে বাংলাদেশের সামনে যেন প্রতিকূলতার পাহাড় দাঁড়িয়ে।
বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক মুমিনুল হক এতসব চ্যালেঞ্জ দেখে ভড়কে যাওয়ার পাত্র নন। চ্যালেঞ্জ, চাপের তত্ত্বে না গিয়ে গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সোজা ব্যাটে খেলে গিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন জুড়ে পইপই করে এই বাঁহাতি বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এই টেস্ট সিরিজটা একটা সুযোগ বাংলাদেশের জন্য। সুযোগ কাজে লাগাতে অধিনায়ক গুরুত্ব দিচ্ছেন মানসিকতার উন্নতিতে। কারণ কোহলি-পূজারাদের সঙ্গে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের স্কিলের ব্যবধান সবারই জানা। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়তে হলে চাই চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা এবং গোটা দলকে মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হতে বলছেন মুমিনুল।
ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়। গতকাল সকালে ভারতীয় দল অনুশীলন করেছে। দুপুরের পর হোলকার স্টেডিয়ামে আসে বাংলাদেশ দল। নিয়মিতভাবে করে যাওয়া অনুশীলনের ছক ইন্দোরেও বহাল ছিল।
দুদলের মুখোমুখি হওয়া আগের ৯ টেস্টের ৭টিই জিতেছে ভারত। পরিষ্কার ফেভারিট স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাই মানসিকতায় জোর দিচ্ছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। গতকাল মুমিনুল বলেছেন, ‘আপনি ব্যাপারটা মাথায় যেভাবে নিবেন ভাবনায় সেভাবেই খেলতে থাকবে। বিষয়টা হলো পুরোপুরি মানসিক। ব্যাপারটা হলো যে, যখন কোনো দলের বিপক্ষে খেলবেন, আনুষঙ্গিক সব কিছু আপনার লক্ষ্য রাখতে হবে। কোন দিকে কে কতটা শক্তিশালী, কার ব্যাটিং কেমন, বোলিং কেমন সবই লক্ষ্য করতে হবে। আপনার মাইন্ড সেট কেমন হবে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমার কাছে ব্যাপারটা এমন মনে হয়।’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে ভারতের মাটিতে এই সিরিজটাকে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন মুমিনুল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘যদি ইতিবাচক কোনো কিছুর কথা বলেন, আমার কাছে একটাই আছে, সেটা হলো সুযোগ। আমার কাছে পুরোটাই সুযোগ। যখন আপনি বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে খেলবেন, যারা তিনটা বিভাগে খুবই ভালো তাদের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে পারলে সেটা আপনার জন্য খুব ভালো ব্যাপার হবে।’
ইন্দোরের ২২ গজে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নামবে বাংলাদেশ দল। ম্যাচে নিজেদের টার্গেট সম্পর্কে মুমিনুল বলেছেন, ‘অবশ্যই ভালো খেলা। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। আপনি যখন যাদের বিপক্ষেই খেলেন, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক কেউ হারার জন্য মাঠে নামে না। সবাই সব সময় জেতার জন্যই মাঠে নামে। আমিও এভাবেই ভাবি। আমরা সব সময় সব ম্যাচে জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামি।’
ভারতীয় পেস, স্পিন—দুটোই পরীক্ষায় ফেলবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। অধিনায়ক নির্দিষ্ট বিভাগের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে নরাজ। মুমিনুল বলেছেন, ‘ভারত এমন একটা দল যারা একেক দলকে একেক চ্যালেঞ্জ দিয়ে থাকে। আমাদের স্পিন দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিতে পারে কিংবা পেস দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিতে পারে। আমরা দুই দিক দিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হবে। সেটা নেওয়ার মনমানসিকতা সবারই আছে।’
এক নজরে দুই দল
ভারত
র্যাংকিং ১
র্যাংকিং-এ সেরা ব্যাটসম্যান : কোহলি (২)
র্যাংকিং-এ সেরা বোলার : আশ্বিন (১০)
সাম্প্রতিক পারফরমেন্স
- দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইনিংস ও ২০২ রানে জয়, ভেন্যু- রাঁচি
- দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়, ভেন্যু- পুনে
- দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০৩ রানে জয়, ভেন্যু- বিশাখাপত্তম
- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৭ রানে জয়, ভেন্যু- জ্যামাইকা
- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩১৮ রানে জয়, ভেন্যু- অ্যান্টিগা
বাংলাদেশ
র্যাংকিং ৯
র্যাংকিং-এ সেরা ব্যাটসম্যান : মুশফিকুর (৩৬)
র্যাংকিং-এ সেরা বোলার : মেহেদী (২৫)
সাম্প্রতিক পারফরমেন্স
- আফগানিস্তানের কাছে ২২৪ রানে হার. ভেন্যু- চট্টগ্রাম
- নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ১২ রানে হার, ভেন্যু- ওয়েলিংটন
- নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ৫২ রানে হার, ভেন্যু- হ্যামিলটন
- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয়, ভেন্যু- ঢাকা
- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৪ রানে জয়, ভেন্যু- চট্টগ্রাম
সর্বশেষ তিন সিরিজে বাংলাদেশ-ভারত :
এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ভারত জয়ী, সাল-২০১৭
এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র, সাল-২০১৫
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে ভারত জয়ী, সাল-২০১০