চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গোভনীয়া খালের ওপর একটি স্লুইসগেট নির্মাণের পর থেকেই অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি এই স্লুইস গেটের বাধার কারণে খালের দুই পাড়ে উপচে পড়ে। ফলে পানিতে তলিয়ে যায় আশপাশের শত শত একর জমির ফসল, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট। বন্যার পানিতে ভেসে যায় শতাধিক পুকুরের মাছ। এতে সর্বস্বান্ত হয় স্থানীয় কৃষকরা। পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ কষ্টের মধ্যে পড়ে হাজারও মানুষ।
জানা যায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২২ বছর আগে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল মিরসরাই পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোভনীয়া খালের ওপর। এ স্লুইসগেটটি দুটি পানি প্রবাহ পথ বিশিষ্ট। উদ্দেশ্য ছিল, গোভনীয়া খালে পাহাড়ি ঢলের পানি নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে সেই পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা। কিন্তু নির্মাণের পর ঐ খালের প্রস্থ কম হওয়ায় ও পাহাড়ি ঢলের পানির ধারণ ক্ষমতা না থাকায় স্লুইসগেটটি মোটেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে স্লুইসগেটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় গোভনীয়া খালের ওপর পড়ে রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সেই স্লুইসগেটের মাউন্টিং পিলার ও সেখানে আটকে পড়া আবর্জনার স্তূপের কারণে প্রবহমান পানি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে খালের দুই পাড়ে উপচে পড়ে। এর ফলে বন্যার পানিতে জনবহুল পশ্চিম গোভনীয়া, পূর্ব গোভনীয়া, আমবাড়িয়া, ফেনাফুনি ও কচুয়া এলাকা প্লাবিত হয়। এ বিষয়ে কথা হয় কচুয়া গ্রামের কৃষক মো. মোজ্জামেল, ফেনাফুনি গ্রামের তালুকদার খাজা মাঈনুদ্দীন, আজিজুল হক, গোভনীয়া এলাকার সজল চন্দ্র শীল বলেন, ঐ অকেজো স্লুইসগেটের কারণে গোভনীয়া খালের পাড় ভেঙে প্রতি বর্ষা মৌসুমে কচুয়া এলাকার সব জমির ফসল নষ্ট হয়। গোভনীয়া খালে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে প্রচুর বালু থাকায় ফসলি জমিতে সেই বালি জমে যায়। ফলে ঐ জমিতে পুনরায় চাষাবাদ করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় বালি বেশি জমে গেলে সেই জমিতে ধান রোপণ করা যায় না। এবছরও ১ একর জমিতে ধানের চারা রোপণের পর তা বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। সেই জমিতে আবার নতুন করে ধানের চারা রোপণ করতে হয়েছে। এ ব্যাপারে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, গোভনীয়া খালের ওপর এ ধরনের স্লুইসগেট প্রযোজ্য নয়। একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড় থেকে এই খাল দিয়ে প্রচুর পানি নামতে থাকে। ঐ পানি এই খাল ধারণ করতে পারে না। যার ফলে খালের বিভিন্ন জায়গায় পাড় ভেঙে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিত্যক্ত স্লুইসগেটটি অপসারণ করে গোভনীয়া খাল খনন করতে হবে। এছাড়া গোভনীয়া খালের ওপর আরো দুটি খুব ছোটো সেতু রয়েছে, সেগুলো ভেঙে সেখানে বড়ো সেতু নির্মাণ করতে হবে যাতে পানি নির্বিঘ্নে নিচের দিকে নেমে যেতে পারে।
স্লুইসগেট অপসারণ করা হবে কি না জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, স্লুইসগেটটি পরিদর্শন না করে কিছু বলা যাবে না। পরিদর্শনের পর এই স্লুইসগেট কার্যকর করা যায় কি না তা বুঝা যাবে। এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে স্লুইসগেটটি সরেজমিনে পরিদর্শন করব। প্রকৌশলী যদি এটি ভেঙে ফেলার পক্ষে মত দেন, তাহলে স্লুইসগেটটি ভেঙে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করে দেব।