সংযোগ সড়কে মাটি নেই ১৮ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় চলতি বছরের বন্যায় উপজেলার সুজাইতপুর-বালুয়াহাট সড়কে অবস্থিত সুজাইতপুর গোবরচাঁপা সেতুর দুই পাশে বন্যার পানির স্রোতের তোড়ে মাটি সরে যাওয়ায় সড়কটিতে চলাচল বন্ধ হয়েছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) আওতাধীন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই সেতুটির দুই পাশে মাটি ভরাট না করায় সোনাতলা সদর বালুয়া ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের পাশাপাশি গোটা উপজেলার প্রায় ২ লাখ পথচারীকে ঘুরে ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে করে একদিকে পথচারীদের সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ঐ সড়কটি সংস্কার ও কার্পেটিং করা হয়। সড়কটি নির্মাণকালে গোবরচাঁপা বিলের ওপর দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে করে সোনাতলা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ উন্নত হয়। রাস্তাটি নির্মাণের ফলে ঐ দুটি ইউনিয়নবাসীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে দূরত্ব কমে আসে।

কিন্তু চলতি বছরের বন্যায় পানির স্রোতের তোড়ে ঐ সড়কে অবস্থিত দুটি সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে তাদের স্বার্থে এই সড়কের আরেক সেতুর দুই পাশে বালুর বস্তা ফেলে ভরাট করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গত প্রায় ছয় মাসেও সুজাইতপুর গোবরচাঁপা সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট না করায় ঐ সড়কে যোগাযোগ এখন বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে সোনাতলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বুলু জানান, সুজাইতপুর গোবরচাঁপা সেতুটির সংযোগ সড়ক বন্যার আগে ভালোই ছিল। এলাকার মানুষ এই সড়ক দিয়ে ঠিকমতো যাতায়াত করেছে। কিন্তু বন্যায় পানির তোড়ে সংযোগ সড়কের মাটি ভেসে যাওয়ায় এই সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঐ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার পথচারী ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি, মিনিবাস, মাইক্রোযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাশেদ ইমরান জানান, সুজাইতপুর-বালুয়াহাট সড়কের সেতুটি সংস্কার ও সেতুর পাশে মাটি ভরাট করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর এই সেতুটি সংস্কার করা হবে।