ডায়াবেটিস প্রতিরোধে চাই পরিবারভিত্তিক চিকিত্সা

 ‘আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি’—এই প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এ উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনব্যাপী চলে বিভিন্ন কর্মসূচি। গত ২০০৭ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। 

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে বারডেম হাসপাতালের অডিটরিয়ামে ডায়াবেটিস নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, স্কুলের বাচ্চাদের খেলার মাঠগুলো আমরা নষ্ট করে ফেলেছি। অপরদিকে, বিভিন্ন জাঙ্কফুডের চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ বলেন, দেশে এইডস, যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়া মিলে যত মানুষ আক্রান্ত, তার চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত ডায়াবেটিসে। অথচ ডায়াবেটিস নিয়ে যে সচেতনতা তৈরি হওয়ার কথা তা হয়নি। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস বহুলাংশে প্রতিরোধযোগ্য। ডায়াবেটিস সারা বিশ্বেই রয়েছে, কিন্তু উন্নতবিশ্বের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি। এটা যদি এখনই প্রতিরোধ করা না যায়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা আরো মারাত্মক অবস্থায় চলে যাবে। তখন ম্যানেজ করা সম্ভব হবে না।

মূল প্রবন্ধ বারডেম জেনারেল হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, জেনেটিক কারণের সঙ্গে যখন অন্যান্য কারণ যোগ হয়, তখন এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের মতে, এই রোগের ব্যবস্থাপনায় দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হয়। প্রথমত, যাদের ডায়াবেটিস হয়নি তারা যাতে ডায়াবেটিসমুক্ত থাকতে পারেন, সেজন্য আগে থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা এবং ডায়াবেটিসজনিত যেসব জটিলতা সৃষ্টি হয় তা থেকে দূরে থাকতে হবে। এ জন্যে তিনি অতিরিক্ত ভোজন পরিহার করতে, নিয়মিত হাঁটা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান আরো বলেন, ডায়াবেটিসের চিকিত্সা হতে হবে পরিবারভিত্তিক। কারণ রোগীর একার পক্ষে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব না। এ রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পরিবারের সবাইকে সহায়তা করতে হবে।

এদিকে, সকাল থেকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম পূরণ করে সিরিয়াল অনুযায়ী ব্লাডপ্রেসার মাপার পর ডিজিটাল মেশিনে নারী-পুরুষের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়। এতে তরুণদের উপস্থিতিই বেশি দেখা যায়। এবার বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন দেশব্যাপী ডায়াবেটিস সম্পর্কিত সচেতনতামূলক পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ছাড়াও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।