আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উত্সব শুরু

প্রাচ্য পাশ্চাত্যের সুর ছুঁয়ে পাঞ্জাবি ভাংড়ার সুরে মাতল ঢাকা

লোকসংগীত মানুষের সুখ-দুঃখ ও বঞ্চনার কথা বলে। বাংলার পথে পথে বাউলদের গানে জীবনের যে আনন্দ বেদনা মিশে থাকে। মিশে থাকে দ্রোহ ও বঞ্চনার সুর। দেশে লোক গানে উঠে এসেছে মানুষের কথা, তাদের জীবন কথা। বাংলার লোক গানের সঙ্গে তাই তফাত নেই জর্জিয়ার প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সুরের।

বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের গান, সুরের রেশ দোলা দিয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষের মনে। বিশ্বের নানা প্রান্তের এই লোক গান মনে করিয়ে দিল, মানুষই সব, মানুষের জন্যই সব। মানুষকে বাদ দিয়ে কিছু না। লোকসংগীত এভাবেই দেশে দেশে, যুগে যুগে মাটি থেকে, জীবন থেকে উত্সারিত উপলব্ধিতে সুর ছড়িয়েছে। তা গান হয়ে মুখে মুখে ফিরতে থাকে মানুষের।

গতকাল বৃহস্পতিবার আর্মি স্টেডিয়ামে সান কমিউনিকেশন্সের আয়োজনে মেরিল নিবেদিত আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উত্সবের পঞ্চম আসর শুরু হয়েছে। আর্মি স্টেডিয়ামে হেমন্তের কুয়াশার মাঝে লোকসংগীতের আসরে মানুষ যেন নিজের শেকড়ের গানের টানে ছুটে এসেছিলেন। যে গান আমাদের অস্তিত্বে মিশে রয়েছে। সেই লোক গানকে নিয়ে এই বিশাল আয়োজনে প্রতিবারের মতো দর্শক শ্রোতারা এসেছিলেন দল বেঁধে। উত্সবের প্রথম দিনে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বাউল গানের শিল্পী শাহ আলম সরকার, ভারতের পাঞ্জাবি ভাংড়া গানের জনপ্রিয় শিল্পী দালের মেহেন্দি এবং জর্জিয়ার ফোক ব্যান্ড শেভেনবুরেবি। আর নৃত্য পরিবেশন করে প্রেমা ও ভাবনার নৃত্যদল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমিন। আন্তর্জাতিক এ লোকসংগীত আসরের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাছরাঙা টেলিভিশন ও সান ইভেন্টেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

ইরানি ও রোমানদের দীর্ঘ যুদ্ধের ইতিহাস বুকে জড়িয়ে রয়েছে জর্জিয়ার। ইরান, রাশিয়া, ইউরোপের সংস্কৃতির ছাপ তাদের জীবনযাত্রায় ও সংগীতে। জর্জিয়ার ব্যান্ড দল শেভেনবুরেবির শিল্পীরা শোনালেন তাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যনির্ভর লোকসংগীত। যাতে একই সঙ্গে মিশে ছিল ইউরোপ ও পারস্যের সংগীতের প্রভাব। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মিশেলে সৃষ্টি জর্জিয়ান লোক গান গেয়ে অল্প সময়ের দর্শক-শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছে ব্যান্ড শেভেনেবুরেবি। ২০০১ সালে এই ব্যান্ড যখন গঠিত হয়, তখন থেকে এর প্রতিটি সদস্য লোক গানকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। শুধু গান গাওয়া নয়, বিভিন্ন ধরনের লোক বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে ভিন্নধর্মী সংগীতায়োজনও শেভেনেবুরেবির বৈশিষ্ট্য। এর সদস্যরা জর্জিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোক গান সংগ্রহ করে জর্জিয়ান লোক সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে চলেছেন। জর্জিয়ান লোকসংগীত কতটা সমৃদ্ধ এবং কত সহজে শ্রোতার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে তা উপলব্ধি করলেন ঢাকার দর্শক।

দিনের শুরুতেই নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসে দেশের প্রেমা ও ভাবনা নৃত্য দল। ‘আমরা রবো না রবো না গো’ গানের সঙ্গে শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। তারপর ছিল আরো কয়েকটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা। এরপর বাউল গান নিয়ে মঞ্চ মাতান শাহ আলম সরকার। তিনি বাউল গানসহ আধ্যাত্মিক ঢংয়ে বেশকিছু গান পরিবেশন করেন।

প্রথম দিনের আয়োজনে সবার শেষে গান পরিবেশন করেন ভারতের বিখ্যাত পাঞ্জাবি লোকগানের শিল্পী দালের মেহেন্দী।