পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অনির্ধারিত আলোচনায় তারা বলেছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, পেঁয়াজের বাজার অস্থির করতে সিন্ডিকেট কাজ করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গটি তুলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া হলে সেটি খারাপ হবে। আজ পেঁয়াজের মূল্য প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে। কী কারণে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে? বাণিজ্যমন্ত্রী যখন বলেন ১০০ টাকার নিচে মূল্য নামবে না, তখন ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ পেয়ে যান। বলা হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। তাহলে কেন মূল্য বাড়ছে তা বোধগম্য নয়। এতে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে তিনি অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আজকে পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা। আমরা কোনো দিনই এটা ভাবিনি। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো একটি পণ্যের মূল্য বাড়লে আমরা তার ওপর আমদানি ডিউটি কমিয়ে বা ফ্রি করে দিই। তাই বলব, যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন তাদের সুবিধা দিন। অন্তত কিছুদিনের জন্য আমদানি শুল্ক শূন্য করে দিন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, অনেক ফেনসিডিল কারবারি রাস্তাঘাটে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে মরে যায়। পেঁয়াজের মূল্য যারা বাড়ায়, তারা একটি বন্দুকযুদ্ধে মরে যাক। তাহলে একটা উদাহরণ হবে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনারা বের করুন, এটি ষড়যন্ত্র কি না। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নিলে এই সংকট থাকত না।
আওয়ামী লীগের আ স ম ফিরোজ বলেন, বাজারে কিন্তু পেঁয়াজ আছে। এর মূল্য বাড়ার কোনো কারণ নেই। মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষ রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, পেঁয়াজের ব্যাপারে সরকারের তত্পর হওয়া উচিত।