চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে চালের দাম। বস্তাপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে গেছে। চালের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ না মিললেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছে মিল মালিকদের ঘাড়ে। তাদের অভিযোগ, মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়াচ্ছে। কয়েকটি জেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে অতি মুনাফার সুযোগ নিতে মিল মালিকরা মূল্যবৃদ্ধি করছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তবে চালের দাম বাড়লেও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। গত কয়েক মাস যাবত্ পেঁয়াজের বাজারও অস্থির। তার মধ্যে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রামে চাল আসে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে। প্রতিদিন উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও বগুড়া থেকে প্রায় ১৫০ গাড়ি চাল আসে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবত্ হঠাত্ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল প্রকারের চালের দাম বেড়েছে। চালের প্রধান পাইকারি বাজার পাহাড়তলী বণিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক হাজী এস. এম. নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে চালের মূল্য। মূলত : উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তার সুযোগ নিতে চায় মিল মালিকরা। তা না হলে চালের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। মিল মালিক ও চট্টগ্রামের আমদানিকারকদের কাছে গুদাম ভর্তি চাল রয়েছে তারপরেও বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। পাইকারি বাজারের দ্বিগুণ বেড়েছে খুচরা বাজারে। মিনিকেট ৫০ টাকা, জিরাশাইল ৫৩-৫৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৫৮-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাক্তাইয়ের চাল ব্যবসায়ী মো. ওমর আজম বলেন, সব ক্যাটাগরির চালের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে মিনিকেট, চিনিগুঁড়া ও অন্যান্য সিদ্ধ চালের দাম বেড়েছে। সামনে নতুন ধান আসবে। ফলে এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
জানা যায়, সরকার গত মে ও জুন মাস নাগাদ চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করে। তার আগে সৃষ্ট খাদ্য ঘাটতি নিরসনের জন্য চাল আমদানিতে শুল্ক তুলে নেয়। এসময়ে চট্টগ্রামে কয়েকটি শিল্প গ্রুপ বছরের শুরুতে প্রচুর চাল আমদানি করে। এতদিন চালের দাম কম থাকায় তারা চাল বিক্রি করেনি। এখন বাজারে দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছে বলে কয়েকজন পাইকারি চাল বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নায়েম মো. সাইফুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পায়নি। যদি নির্দেশনা আসে তখন উদ্যোগ নেওয়া হবে।