রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতা ও অপরাধের বিষয়ে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। কৌঁসুলিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইসিসির বিচারকরা এতে অনুমোদন দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে যে ব্যাপকভাবে এবং/অথবা পদ্ধতিগতভাবে সহিংসতা চালানো হতে পারে, যা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে বাস্তুচ্যুতির পেছনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকতে পারে। চেম্বার তাই বাংলাদেশ/মিয়ানমারের পরিস্থিতি তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যদিও মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কোনো সদস্য নয়। কিন্তু রাখাইনে সহিংসতার কারণে যে অপরাধ হয়েছে তা আংশিকভাবে হলেও সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশেও প্রকাশ পেয়েছে। এ কারণে বিষয়টি তদন্তের বিচারিক এখতিয়ার আইসিসির আছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে কয়েকটি সীমান্ত চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এই অভিযানকে জাতিসংঘ জাতিগত নিধনের উত্কৃষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছে। নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যদিও মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী যে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।