কোলেস্টেরল আর সুগার কানেকশন

অনেকেই মনে করেন, যেসব খাবারে কোলেস্টেরল বেশি, যেমন ডিম বা চিংড়ি মাছ, সেসব খাবার খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়বে। কিন্তু ঘটনাটি এভাবে ঘটেনা। সত্যিকার অর্থে খাদ্যের কোলেস্টেরল তেমন সমস্যার কারণ নয়। আমাদের রক্তে যে কোলেস্টেরল বহমান, এর বেশির ভাগ দেহের ভেতরে তৈরি হয়। খাবার থেকে কোলেস্টেরল যে পরিমাণ শরীরে প্রবেশ করে, তা রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির

গুরুত্বপূর্ণ কারণ নয়। তাই

যেসব খাবারে এমনিতে কোলেস্টেরল আছে, সেগুলো

খাওয়া এড়ানোর চাইতে যেসব খাবার খেলে শরীর কোলেস্টরল সৃষ্টিতে উদ্যোগী হয়, সেগুলো এড়ানো বেশি প্রয়োজন।

কোলেস্টেরল উত্পাদনের

সবচেয়ে বড়ো উপাদান বিশ্বাস করুন বা না করুন, তা হলো ‘সুগার’। সুগার মানে, খাবারে যে সুগার যোগ করা হয় সেগুলো এবং যেসব সরল শর্করা, যা শরীরে দ্রুত সুগারে রূপান্তরিত হয়।

মিষ্টি, মণ্ডা, রসগোল্লা, জিলিপি, কেক, কুকিস, ক্যান্ডি বা অন্য পায়েস, ফিরনিই নয়, পরিশোধিত শর্করাও আছে তালিকায় যেমন—মিলে ছাঁটা সাদা চাল, ময়দার

রুটি, পাস্তা ইত্যাদি।

সব শ্বেতসার ভেঙে তৈরি হয় সুগার বা গ্লুকোজ। রক্তের মধ্যে সুগার বা গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে, এক গামলা ভাত খেয়েছেন, শরীর

কীভাবে সাড়া দেয়? ইনসুলিন ক্ষরণ শুরু হয়। ইনসুলিন হলো এমন হরমোন, যা গ্লুকোজের ব্যবহার শরীরে নিশ্চিত করে। দুই বেলা খাবারের মধ্যে সময়টা যাতে গ্লুকোজ ব্যবহার হয়, সেজন্য গ্লুকোজ জমা করে রাখে এই ইনসুলিন। কিন্তু গ্লুকোজ কেবল ভান্ডারে জমা থাকল তা নয়, বরং শরীরে সঞ্চয়ের ভান্ডারকে সাধারণভাবে উত্সাহিত করে ইনসুলিন।

কোলেস্টেরলের সঞ্চয়ী রূপ

হলো এলডিএল। মন্দ কোলেস্টেরল। ইনসুলিনের মাত্রা ওপরে উঠে গেলে এলডিএল

মানও বাড়ে। কোলেস্টেরলের সঞ্চয়ী রূপ এইচডিএল নয়। এইচডিএল কমে যায়। সুগার ভান্ডারজাত হওয়ার পরও কিছু সুগার বহমান থাকে। ইনসুলিন সেই সুগারকে চর্বিতে রূপান্তরিত করে। তাহলেই বেড়ে যায় রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড। অনেক

হূদেরাগ বিশেষজ্ঞ তাদের

অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, যেসব লোক লো ফ্যাট, লো কোলেস্টেরল ডায়েট খান কিন্তু সুগারের

পরিমাণ ও ধরন তোয়াক্কা

না করে দেদার খান, তাদের

রক্তে লিপিড প্রোফাইল

খুব খারাপ।

ফল ও সবজি খাওয়ার বদলে

হোল গ্রেন খাওয়ার বদলে

তারা দেদার পপকর্ন, লো কোলেস্টেরল রুটি, পাস্তা,

লো ফ্যাট কুকিস খান। একটি

কথা স্পষ্ট করে বলা যায়,

যে সুগার প্রাকৃতিকভাবে ফলে

থাকে, এটি দেহে ভিন্ন রকম

প্রভাব ফেলে। গোটা ফল যেমন আপেলে আছে যে সুগার, তা

শরীরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে। কারণ আপেল পরিপাক হতে

বেশ সময় লাগে। আর এতে ইনসুলিনের মাত্রা থাকে স্থিতিশীল। গোটা আপেলের কথা বলছি, আপেল সস বা আপেল জুস নয়, যেগুলো হজম হয় দ্রুত। তাই শ্বেতসার খাওয়ার সময় গোটা শর্করা খাওয়া ভালো। প্রাকৃতিক শর্করা, কৃত্রিম প্রস্তুত শর্করা নয়। গোটা শস্যদানা, গোটা ফল এসব ভালো। তাহলে ইনসুলিনের মান থাকবে ঠিক, কোলেস্টেরলও থাকবে ঠিক।

nঅধ্যাপক ডা.  শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস

বারডেম, ঢাকা