সেন্টমার্টিনে হাসপাতাল থাকলেও নেই ডাক্তার!

ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপটিতে ১০ শয্যার একটি তিন তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন থাকলেও হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সাসেবা। এদিকে বিভিন্ন সময়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সভায় হাসপাতালটির অচলাবস্থার কথা বলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান দ্বীপ ইউনিয়নটির ইউপি চেয়ারম্যান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বীপে পদায়নকৃত ডাক্তাররা না আসায় বছরের পর বছর এখানকার মানুষ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ডাক্তার এবং কোনো ধরনের নার্স না থাকায় জটিল এবং সাধারণ রোগীদের সেবা নিতে সাগর পথ পাড়ি দিয়ে টেকনাফ উপজেলা সদরে আসতে হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার সাগর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় রোগী মারা যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। বর্ষা এবং দুর্যোগের সময় সেবা না পেয়ে অনেক রোগী অকালে মৃত্যুবরণও করছেন।

স্থানীয়রা জানায়, দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এছাড়া সারা বছর পুলিশ, বিজিবি,  কোস্ট গার্ড,  নৌবাহিনী এবং ট্যুরিষ্ট পুলিশ দ্বীপে অবস্থান করেন। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন তিন/চার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। স্থানীয় জনসাধারণসহ এসব লোকের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার মতো কোনো ডাক্তার নেই। তৌহিদা আক্তার নামের স্থানীয় এক গৃহবধূ জানান, এখানে হঠাত্ হঠাত্ ডাক্তার আসেন। এই গৃহবধূ আরো জানান, ডাক্তার এবং নার্স না থাকায় গর্ভবতী মায়েরা কোনো ধরনের সেবা পাচ্ছেন না। গর্ভবতী মায়েদের টেকনাফ গিয়েই চিকিত্সা নিতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খান জানান, সেন্টমার্টিনের মানুষ মৌলিক অধিকার তথা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জটিল এবং কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার জন্য টেকনাফ নিয়ে আসা হয়। সাগর পথে আসার সময় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি দ্বীপের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, নার্সসহ প্রয়োজন সংখ্যক জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, ডাক্তার এবং কোনো ধরনের নার্স না থাকায় দ্বীপবাসী এবং পর্যটকরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। তিনি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের সেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন বড়ুয়া জানান, আগস্ট থেকে ডাক্তারের পোস্টিং নেই। একজন এমএলএসএস এবং আরেক সেকমো (উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার) দিয়ে হাসপাতালটি কোনোমতে চলে আসছে। ডাক্তার সমস্যার বিষয়টি পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের জনসাধারণ এবং পর্যটকদের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।