চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অন্যান্য বছরের চেয়ে চলতি বছর অনেক আগে আমন ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। এ কারণে উপজেলার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমান বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় মলিন কৃষকদের মুখ। এ বছর বন্যায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ায় ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেক বেশি জমিতে আমন রোপণ করেছিলেন কৃষকরা। ধানের বাজারদর কম হওয়ায় তাদের মুখে নেই তৃপ্তির হাসি।
সাতকানিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নে আমন ধান রোপণের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ১০০ হেক্টর। তার মধ্যে স্থানীয় ২৫০ হেক্টর, হাইব্রিড ৬০০ হেক্টর এবং উফশী ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর। ইতিমধ্যে আনুমানিক ৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাতকানিয়ার একটি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের ধানি বিলে সোনালি ধানে ভরে গেছে। মাঠে পাকা ও আধাপাকা ধান বাতাসে দুলছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর জমিতে তারা কালোজিরা, পাইজাম, বিনা ৭, ১৭, ২০, হাইব্রিড, ব্রি ধান-৭২, ৪০, ৩৩, ৪১, ৪৯, ৫২, বিআর-১১, ১০, ২২, ২৩, বিনি জাতের ধান, ধানি গোল্ড, তেজ ও এজেড জাতের ধান রোপণ করেছেন।
উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের কালামিয়া পাড়ার আমন ধানচাষি মোহাম্মদ নুরুল কবির, বোর্ড অফিস এলাকার আইয়ুব, আহমদ হোসেন, সদর ইউনিয়নের বারদোনা এলাকার মহিউদ্দিন, হাতিয়ারকুলের আবু তাহের, মো. ইউনুচ জানান, তাদের রোপিত আমনখেতের সব ফসল এখনো পরিপক্ব হয়নি। কিছু কিছু ধান পাকছে। অন্যদিকে অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সারিবদ্ধভাবে লাইনধরে ধান রোপণ করেছেন। তাদের ফলন অন্যদের চেয়ে বেশি।
সাতকানিয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম জহির জানান, আমন ধান কাটার সময় এখনো আসেনি। বন্যার কারণে জমিতে অনেক পলি পড়ছে এ বছর। ধানের বাজারদাম কম হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, সবসময় তো আর বাজারদর এক থাকে না, দাম বাড়তেও পারে। তাছাড়া সরকারি গুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনা হয়। সকল কৃষকরা যদি লাইন করে সারিবদ্ধভাবে ধান রোপণ করতেন তাহলে তারা অনেক বেশি লাভবান হতেন।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, যে সমস্ত কৃষকরা একটু আগে আমন ধান রোপণ করেছেন এবং যাদের জমিগুলো একটু উঁচু এলাকায় তাদের সব ধান পেকে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে মাঠের সব ধান কাটতে পারবে। তাছাড়া এ বছর আমনখেতের ফলনও চোখে পড়ার মতো।