আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন আজ। বেলা ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ১১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ১২ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও দুই মহানগরের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। জানা গেছে, এবার সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও গঠনতন্ত্রে বড়ো পরিবর্তন আসছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে থাকছে চমক। ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা নতুন নেতৃত্বে অগ্রাধিকার পেতে পারেন। বিতর্কিতরা যে বাদ পড়বেন তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে সম্মেলনের সকল কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের সম্মেলনে মোল্লা মো. আবু কাওছার ও পঙ্কজ দেবনাথকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির আকার বাড়ানো হচ্ছে। ১০১ থেকে বেড়ে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৫০ জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হবেন। নতুন তিনটি সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে—প্রশিক্ষণ ও কর্মশালাবিষয়ক সম্পাদক, অটিজমবিষয়ক সম্পাদক এবং নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদও একটি করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। আর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মতো বয়স নির্ধারণেরও চিন্তা-ভাবনা চলছে। যদিও এ বিষয়টি সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা মেনে নিতে প্রস্তুত সংগঠনের কাউন্সিলররা। এদিকে উত্তর-দক্ষিণ শাখার কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করেছেন। কেন্দ্রের কাউন্সিলররাও নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেবেন বলে জানা গেছে। এ কারণে আগে থেকেই সম্ভাব্য নেতাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ও গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে খবর নিয়ে কেন্দ্র ও মহানগরের শীর্ষ নেতাদের খসড়া প্রণয়ন করেছেন শেখ হাসিনা।
সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নৌকার আদলে দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মেট্রোরেলসহ উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরে মঞ্চ সাজানো হয়েছে। ১৯৭৫ জন কাউন্সিলর এবং প্রায় ১৮ হাজার ডেলিগেট উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অতিথি থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার। সংগঠনের সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে সদস্য সচিব করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দুই জন সংগঠনের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। তবে বয়স নির্ধারণ হলে তারা বাদ পড়তে পারেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী বর্তমান সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত। বর্তমান সংগঠনের সহসভাপতি মতিউর রহমান মতি এবং নিবেদিত, পরিশ্রমি, ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠক আবদুল আলিম বেপারী এবার কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। এছাড়া বর্তমান তিন সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ শাকিব বাদশা, খায়রুল হাসান জুয়েল এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাবিষয়ক সম্পাদক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেনও কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হচ্ছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, গোলাম রাব্বানী, ইসহাক মিয়া প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, হাবিবুর রহমান পান্না, আফরোজ হাবিব প্রমুখ। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন মোল্লা মঞ্জু, আরিফুর রহমান টিটু, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা হচ্ছেন মির্জা মোরশেদুল আলম মিলন, তারিক সাঈদ প্রমুখ।
১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি পার করে দেয় নয় বছর। ২০০৩ সালে প্রথম কমিটি হয় সংগঠনটির। এর নয় বছর পর ২০১২ সালে ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ১৬ নভেম্বর ঠিক করা হয়। আজ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনে উদ্বোধানী অধিবেশন এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।