রাহীর ধাক্কা সামলে রানের পাহাড়ে ভারত

ইন্দোর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে রানের পাহাড়ে চড়ে বসেছে ভারত। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরিতে গতকালই কার্যত ম্যাচটা বাংলাদেশের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান। লিড ৩৪৩ রানের। গতকাল ৫ উইকেট হারিয়ে ৪০৭ রান যোগ করেছে ভারত। রবীন্দ্র জাদেজা ৬০, উমেশ যাদব ২৫ রানে ব্যাট করছেন।

ভারতের এই রান উত্সবের স্কোর কার্ড আড়াল করে দিচ্ছে বল হাতে ‘একজন’ আবু জায়েদ রাহীর প্রতিরোধ। নিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বারবার কাঁপিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিং লাইন। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে সমর্থনটা পাননি। এবাদত হোসেন, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজদের নির্বিষ বোলিং রাহীর দাপটকে ম্লান করে দিয়েছে। ১০৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার।

ভারতের রানের পাহাড়ে পিষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ। আজ তৃতীয় দিন ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়া বা ইনিংস ঘোষণার অপেক্ষাতেই থাকবে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে ম্যাচটা চতুর্থ দিনে নিয়ে যেতে হলে ব্যাট হাতে ভদ্রস্থ কিছু পারফরম্যান্স দেখাতেই হবে মুমিনুল-মুশফিকদের।  

অথচ সকালটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের, যার পুরো কৃতিত্ব রাহীর। প্রথম সেশনে দুটি উইকেট নিয়েছিল বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারেই পূজারাকে ফেরান তিনি। চার নম্বর স্লিপে ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। পূজারা ৫৪ রান করেন। এক ওভার পরই আবার আঘাত হানেন রাহী। এবার বড়ো ‘মাছ’ শিকার করেন তিনি। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন শূন্য রানে। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন কোহলি। রাহীর বলটা অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকছিল।

ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যর্থ হন কোহলি। বল প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার আউট দেননি। পরে উইকেটকিপার লিটন দাসের অনিশ্চয়তাসূচক সংকেতের পরও রিভিউ নেন অধিনায়ক মুমিনুল। রিভিউতে মিলেছে সাফল্য। কোহলিকে ফিরতে হয়েছে শূন্য রানে। ১৪ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা চাঙ্গা হয়েছিল বাংলাদেশ শিবির।

তবে ১১৯ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারতের হাল ধরেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও আজিংকা রাহানে। লাঞ্চের আগে আর বিপদ হতে দেননি তারা। দিনের দ্বিতীয় সেশনে উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। এই সময় রাহানে ২১তম হাফ সেঞ্চুরি, আগারওয়াল তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। চা বিরতির পর তাদের ১৯০ রানের জুটি ভাঙতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এবারও ত্রাতা সেই রাহী। কাট করতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন রাহানে। তিনি ৮৬ রান করেন।

রাহানে ফেরার পর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আগারওয়াল। পঞ্চম উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গেও ১২৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। ডাবল সেঞ্চুরির পর বেশ মারকুটে ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। আগারওয়ালকে থামাতে পেরেছে বাংলাদেশ। মিরাজের বলে এই ওপেনার ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। বলা বাহুল্য, এই উইকেট পতনেও রয়েছে রাহীর স্পর্শ। কারণ ক্যাচটা যে রাহীই তালুবন্দি করেছেন। ৩৩০ বলে ক্যারিয়ার-সেরা ২৪৩ রানের (২৮ চার, ৮ ছয়) ইনিংস খেলেন আগারওয়াল।

দিনভর ক্লান্তিকর বোলিংয়ের পর উইকেটের দেখা পান এবাদত হোসেনও। নিজের ৩০তম ওভারে ঋদ্দিমান সাহাকে (১২) বোল্ড করেন তিনি। শেষ দিকে জাদেজা তুলে নেন ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি। এলোপাতাড়ি ব্যাটিংয়ে ১০ বলে ২৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন উমেশ যাদব। মিরাজ ও এবাদত একটি করে উইকেট নেন।