টঙ্গীতে কলা পাকাতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল

টঙ্গীর বাজারগুলোতে কলা পাকাতে প্রকাশ্যেই দেওয়া হচ্ছে কার্বাইডজাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। ফলে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কলা আকর্ষণীয় হলুদ রং ধারণ করে। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে টঙ্গী বাজার, টঙ্গী নতুন বাজার, চেরাগ আলী বাজার, বোর্ডবাজারসহ ছোটো-বড়ো সব কয়টি বাজারে। গাজীপুরসহ টঙ্গীর শিল্পনগরীতে কলার ব্যাপক চাহিদার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং প্রশাসনের  নজরদারির অভাবে অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা এসব অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, টঙ্গী বাজার, বৌবাজার, টঙ্গী নতুন বাজার, চেরাগ আলী বাজার, বড়বাড়ী বাজার, বোর্ডবাজার, পুবাইল বাজারসহ গাজীপুরের প্রায় সব বাজারে প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক কলা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে। গাজীপুরের বাজারগুলো ছাড়াও এলাকাভিক্তিক কলার দোকান রয়েছে শতাধিক। এসব কলার দোকানে প্রতিদিন কলা পাকাতে এবং কলার রং আকর্ষণীয় করতে কার্বাইড মেশানো হচ্ছে। এসব বাজারের শতভাগ কলাই বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টঙ্গীর নতুনবাজারের এক কলা ব্যবসায়ী জানান, ‘কলায় এসব পদার্থ মেশালে কলা দ্রুত পাকে এবং কলা দেখতে খুব সুন্দর দেখায়, তাই কাস্টমাররা এসব কলা কিনে নিয়ে যায়। এতে আমাদের লাভও হয় বেশি।’ কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা খুব দ্রুত পচে যায়। এসব কেমিক্যাল মেশানো কলা খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, তারপর এমনটি করছেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এই কলা ব্যবসায়ী বলেন, ‘সবাই মেশায়, তাই আমিও মেশাই।’

এই ব্যবসায় দুই মাস যাবত্ এসেছেন মো. আবদুর রহিম। তিনি টঙ্গীর নতুনবাজারে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করছেন কলার ব্যবসা। কেমিক্যাল মেশানোর প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, ‘কলা আমরা অনেক দূর থেকে নিয়ে আসি। আসতে আসতে তিন দিন লেগে যায়। আনার পর একটি বদ্ধ ঘরে রেখে রাসায়নিক ছিটানো হয়। ছিটানোর ফলে এই কলা দ্রুত পেকে যায়। আমাদের বিক্রি করতেও সুবিধা হয়।’ তাই তারা একসঙ্গে কলা পাকাতে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন।

টঙ্গীর চেরাগ আলীর আরেক ব্যবসায়ী মো. হারুন মিয়া জানান, তিনি ব্যবসা করছেন বহু বছর যাবত্। এ পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যা বা অভিযোগ আসেনি। তাই চোখ বন্ধ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, কেমিক্যাল মেশানো ছাড়া কেউ এই ব্যবসা চালাতে পারবে না। টঙ্গী শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মো. পারভেজ আহম্মেদ বলেন, বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো এসব কলা খেলে নানা ধরনের জটিল রোগ হতে পারে।