গাজীপুরের রাজদিঘি এখন পয়োনিষ্কাশনের আধার!

গাজীপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুরে রয়েছে ভাওয়াল রাজাদের দ্বারা নির্মিত বিশাল ভাওয়াল রাজপ্রাসাদ। বর্তমানে এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন অফিস আদালত হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। আর এই রাজপ্রাসাদের পশ্চিম দিকেই রয়েছে ভাওয়াল রাজাদেরই নির্মিত বিশাল আকৃতির রাজদিঘি। এর বিশালত্ব দেখে সবাই চমত্কৃত হয়। রাজদিঘিটি দক্ষিণ-উত্তরে বিস্তৃত। এতে রয়েছে তিনটি পাকা ঘাট। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী প্রতিদিন এই দিঘিটি দেখতে আসে।

বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০/২৫ বছর আগেও এ রাজদিঘিটি ছিল স্বচ্ছপানির আধার। এর টলটলে পানি দেখে সবাই মুগ্ধ ও পুলকিত হতো। স্বচ্ছ এই পানিতে গোসল করে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের শরীর জুড়িয়ে নিতেন। এ দিঘিতে ছিল ছোটো-বড়ো দেশীয় মাছের বিপুল সমাহার। এলাকার শৌখিন মাছ শিকারীরা ছাড়াও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের সৌখিন মাছ শিকারীরা টিকিট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করতেন দিঘিতে। কিন্তু দিঘিটির সেই সুদিন, সেই জৌলুস আজ আর নেই।  দিঘিটি বর্তমানে আশপাশের বাসা-বাড়ি ও অফিস আদালতের পয়োনিষ্কাশনের আধারে পরিণত হয়েছে। এই পচা জলাশয়ে গোসল করা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধে এর আশপাশ দিয়ে যাতায়াত করাও রীতিমতো কষ্টকর। দিঘিটির কালো-ময়লা পানি দেখে এটিকে এখন আর সেই ঐতিহ্যবাহী দিঘি বলে মনে হয় না। দিঘির পচা পানিতে মাছ বাঁচতে পারছে না। তাই দিঘিতে এখন আর আগের মতো রুই-কাতলা-মৃগেল-চিতলসহ বড়ো বড়ো মাছ পাওয়া যায় না।

দিঘিটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করাটা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন থেকে দিঘির ভগ্নপ্রায় পাড় সংস্কার করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং পানিকে দূষণমুক্ত ও এতে মাছ চাষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব কোনো কাজই দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, দৃষ্টিনন্দন এ দিঘিটি রক্ষণাবেক্ষণ ও এর পানি ব্যবহার উপযোগী করে এতে মাছ চাষের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দিঘিটির চারপাশে ওয়াকওয়ে করা হবে। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা বলে দিঘিটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।