মোয়া প্রসঙ্গে আসার আগে ‘মোল্লা’ শব্দটি সম্পর্কে একটু পরিষ্কার হয়ে নেই। মূলত মোল্লা একটি ফার্সি শব্দ। এটি আরবি মাওলা শব্দ থেকে এসেছে। মাওলানা ও মৌলভী শব্দ দুটিও আরবি শব্দ মাওলা থেকে উত্পত্তি হয়েছে। মাওলা শব্দের অর্থ হলো মুসলিম কর্তা, রক্ষক, নেতা বা অভিভাবক তথা মুসলিম পণ্ডিত ব্যক্তি, যারা ধর্মীয় জ্ঞান বিতরণ করেন। সাধারণ ভাষায় হুজুরদেরকে মোল্লা বলা হয়। মোল্লা, মুনশি; এগুলো হলো মুসলমানদের পদবি, সম্মানিত ব্যক্তি। যাই হোক, আসল কথায় আসা যাক।
মূলত হুজুরদেরকে মোল্লা বলা হলেও আমাদের গ্রামাঞ্চলে একটি খাবারের নাম রয়েছে মোল্লা। সেই খাবারটি হলো মুরির মোয়া। আমার ছেলেটি এখনো ছোট, ভারি দুষ্টু, এখনো স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। সেদিন জিজ্ঞাসা করলাম, ‘বাবা, কী করো?’
বলল, ‘মোল্লা খাই।’
আমি সংশোধন করে বললাম, ‘বাবা, ওটা মোল্লা না, ওটার নাম হলো মোয়া, মুরির মোয়া।’
সে ছুটে গিয়ে ধপাস করে প্লেটে রাখা মোয়ার ওপর বসে পড়ল।
বললাম, ‘হায় হায়, বাবা এটা কী করলে?’
ছেলে বলল, ‘তুমি বলছ না মোয়া? তো আমি মোয়ার ওপর বসেছি।’
ওর মা তো হাসতে হাসতে খুন। ‘যেটার ওপর বসে সেটার নাম মোড়া, মোয়া না বাবা, মো-ড়া।’