রৌমারীতে গোখাদ্যের সংকট

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গত জুলাই মাসের বন্যায় প্রায় গ্রামাঞ্চলের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় এবং গোচারণ ভূমিতে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা ও সংরক্ষিত ধানের খড় নষ্ট হওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।

গত জুলাই মাসের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র, সোনাভরী, হলহলিয়া নদীর পানি উপচে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ এলাকা ডুবে যায়। ফলে গোস্থানসহ বিস্তীর্ণ মাঠ দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকে। এখনো অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে আছে। গবাদি পশুকে মাঠে চড়াতে না পেরে সংরক্ষণে থাকা কিছু খড় খাওয়ানো শেষে বিপাকে পড়েছে কৃষক।

উপজেলার পাখিউড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ, ময়নাল হক, রহম আলী জানান, আমাদের এলাকার অনেকের চার থেকে পাঁচটি গরু রয়েছে। গবাদি পশুর ১ বছর খাদ্য খড় সংরক্ষিত করেছিলাম। কিন্তু গত বন্যার পানিতে খড়ের পালা বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে পচে গলে গেছে। দীর্ঘদিন গোচারণ ভূমিও পানিতে ডুবে থাকায় এবং অনেক জমিতে রোপা আমন চাষ করায় গরু মাঠে চড়াতে না পেরে সংরক্ষিত খড় শেষ হয়েছে। বর্তমানে সংরক্ষিত খড় শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং এখনো পতিত মাঠে ঘাস না থাকায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়ে রয়েছি।

রৌমারী গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার, দুলাল, মঞ্জু সরদার জানান, নিম্নাঞ্চল দীর্ঘদিন থেকে পানি থাকায় এবং গোচারণ ঘাস ও খড় নষ্ট হওয়ায় খড়ের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ৫০০ টাকার খড় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষকের ব্যাপক হারে ক্ষতি হয়েছে। এখনো কিছু কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি রয়েছে। যে কারণে গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা গোখাদ্য সংকট মোকাবিলায় কৃষক, খামারিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। অনেক এলাকায় আগাম ধান চাষ করেছে এবং সে ধান গুলি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কাটা মাড়াই শুরু হবে। পতিত জমিতে ঘাস চাষ হবে। তখন গোখাদ্যের সংকট দূর হবে।