টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রাণ ফেরাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে আইসিসি। একটা নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে। বাংলাদেশ কি না টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যুগে প্রবেশের শুরুতেই ফিরিয়ে আনল অতীতের স্মৃতি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবন্ত বাংলাদেশ ইন্দোর টেস্টে ভারতের কাছে হারল মাত্র তিন দিনে। হেরেছে ইনিংস ও ১৩০ রানের ব্যবধানে। টেস্ট আঙিনায় প্রবেশের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার পর্যায়েই যেতে পারছে না।
ইন্দোরে কার্যত ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। ভারতীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানের পর গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিমই যা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন। হতাশ করেছেন ওপেনাররা। ইশান্ত-উমেশদের বোলিংয়ের জবাবই যেন তাদের কাছে ছিল না।
গতকাল ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছেন, আরো ধৈর্য নিয়ে ব্যাটিং করা উচিত ছিল ব্যাটসম্যানদের। ভারতীয় বোলিং আক্রমণ সামলানোকে বড়ো চ্যালেঞ্জ মানছেন তিনি।
দলের ব্যাটিংয়ের ধরন ঠিক ছিল কি না জানতে চাইলে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ব্যাটিংয়ের ধরন ঠিক ছিল। আপনার বোঝা উচিত ছিল এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আপনাকে খুব ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করতে হবে। আপনারা খেলা দেখছেন, আমার কাছে মনে হয় বাজে বল খুব কমই করে। আমার কাছে মনে হয় আরো বেশি ধৈর্য নিয়ে খেলা উচিত ওপেনার বা টপঅর্ডারে যারা ব্যাটিং করবে।’
ইন্দোরে ইনিংস ব্যবধানে হারলেও মুশফিকের ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক বলছেন মুমিনুল। দুই ইনিংসে ১০৭ রান করেছেন মুশফিক। গতকাল ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি। মুমিনুল বলেন, ‘আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি, তার পরও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। মুশফিক দুই ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করেছে। লিটন, মিরাজও ভালো ব্যাটিং করেছে। আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি। আমরা ভালো জুটিও গড়তে পারিনি।’
র্যাংকিংয়ে বিস্তর ব্যবধান। তার সঙ্গে ভারতীয় বোলিংটা বড়ো হুমকি হয়ে ধরা দিয়েছিল। তবে মুমিনুলের চোখে, বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই হুমকি ছিল। একই সঙ্গে মনে হয় আমরা ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হয়েছি। হুমকি তো ছিল, না হলে ওদের যে তিন জন বোলার আছে তাদেরকে নিয়ে ভারত এখন বিশ্বের এক নম্বর বোলিং দল। এখানে বড়ো একটি হুমকি ছিল, আমরাও সেভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। মিস করে গিয়েছি, আমার কাছে মনে হয়।’
দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ওপেনাররা শুরুতে আউট হয়ে গেছেন। উভয় ইনিংসে ইমরুল-সাদমান (৬) একই রান করেছেন। অথচ অধিনায়কের চাওয়া ছিল, ওপেনাররা আরো বেশি সময় উইকেটে থাকুক। মুমিনুল বলেন, ‘আমরা যে বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলেছি সেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। ওপেনাররা যদি ১৫-২০ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে তাহলে মনে হয় পরের দিকে সহজ হয়। ঐ ১০-১৫ ওভার আমাদের একটু চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’
নেতৃত্বের শুরুতেই বড়ো হার। তাতে হতোদ্যম হয়ে পড়ছেন না অধিনায়ক মুমিনুল। তিনি বলেছেন, ‘এটি জীবনের অংশ। আপনার কোনো সময় খারাপ হবে, কোনো সময় ভালো হবে। এটি নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাতে হবে যে, মানুষ যখন সংগ্রাম করে তখন ভালো কিছু আসে বলে আমার কাছে মনে হয়।’