শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গতকাল ভোট দিয়েছেন দেশটির মানুষ। কে হবেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট তা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলছে বিশ্লেষণ। নতুন প্রেসিডেন্ট শ্রীলঙ্কার ভূরাজনৈতিক কৌশলের উপর প্রভাব রাখবেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সতর্ক অবস্থায় আছে চীন ও ভারত। খবর ডয়চেভেলে ও রয়টার্সের
বিভিন্ন দলের মোট ৩৫ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখক প্রার্থী। সর্বশেষ নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল ২২ জন। প্রার্থীদের মধ্যে দুজন বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা, চারজন মুসলিম ও একজন নারী। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে একজন প্রার্থীকে শতকরা ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হবে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কেউই প্রার্থী নন। দেশটির ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম। আগামী বছর দেশটির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই!
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে মূলত দুজন প্রার্থী। তারা হলেন-শ্রীলঙ্কা পডুজানা পেরামুনা দল থেকে মনোনীত গোতাভায়া রাজাপাকসে আর ন্যশনাল ডেমোক্র্যাট দলের সজিত প্রেমাদাসা। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ দু’জন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে বড় দুটি জোট গড়তে সমর্থ হয়েছেন। নির্বাচনে প্রায় ৬০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভোটাররা কাকে বেছে নিবেন এ বিষয়ে কোনো ধারণা করতে পারছেন না বিশ্লেষকরা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সিংহল গোষ্ঠীর কাছে বেশ জনপ্রিয় গোতাভায়া রাজাপাকসে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই গোতাভায়া রাজাপাকসে ২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহীদের দমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্যদিকে সজিত প্রেমাদাসা দারিদ্রদূরীকরণসহ উন্নয়নমূখী প্রকল্পের জন্য ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় বলে জানা গেছে। বর্তমান সরকারের গৃহায়ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনরত প্রেমাদাসা তার রাজনৈতিক ইশতেহারে দারিদ্র বিমোচনের বিষয়াদিকে বেশি গুরুত্ব দিতে দেখা গেছে।
এদিকে বাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আটকানো হয় ১০০টি বাসের কনভয়টিকে। তারপর দুটি বাস লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। বাসগুলোর দিকে পাথরও ছোড়া হয়। কলম্বো থেকে ২৪০ কিলোমিটার উত্তরে তানতিরিমালে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনের দিন হামলার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। হামলাকারীদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।