দুই দিনেই জিতল সিলেট

জাতীয় ক্রিকেট লিগ-২য় স্তর

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে আগুন ঝরালেন রুহেল মিয়া। গড়লেন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো পেসারের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। তার তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত গুটিয়ে গেল চট্টগ্রাম। সহজ লক্ষ্য পেয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালেই জয় তুলে নিল সিলেট।

তরুণ বাঁহাতি পেসার রুহেলের ১৩ উইকেট পাওয়ার ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতেছে তার দল। জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চট্টগ্রাম গুটিয়ে যায় ১৬৫ রানে। সিলেটের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২। ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেনের উইকেট হারিয়ে ৬ ওভারের মধ্যেই সেই রান তুলে ফেলে অলক কাপালীর দল।

এই স্তরের অন্য ম্যাচে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে রান বন্যা করেছে বরিশাল। প্রথম ইনিংসে বরিশাল ৪১৪ রান করে। জবাবে ঢাকা মেট্রো ২ উইকেটে ২২৫ রান তুলে ফেলেছে।

চট্টগ্রামের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে ৮ উইকেট নেওয়া রুহেল দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬৫ রান খরচায় পেয়েছেন ১৩ উইকেট। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো পেসারের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের আগের রেকর্ডটি ছিল আল-আমিন হোসেনের। ২০১১ সালে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৮৯ রান খরচায় ১২ উইকেট নিয়েছিলেন খুলনার হয়ে।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে সিলেট, লিড ছিল ৮০ রানের। সেই লিড এরপর আর খুব বেশি বড়ো হয়নি।

আগের দিন চার উইকেট পাওয়া চট্টগ্রামের পেসার ইফরান এদিন নেন আরো দুটি। ১২৪ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নামা চট্টগ্রাম এবারও শুরুতেই ধাক্কা খায়। প্রথম ওভারে ইমরান আলির বলে ফেরেন ওপেনার পিনাক ঘোষ। আগের ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া রুহেল আঘাত হানেন নিজের প্রথম ওভারেই। ফিরিয়ে দেন আলভি হককে।

চতুর্থ উইকেটে ইরফান শুক্কুরের সঙ্গে সাদিকুরের ৬৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে চট্টগ্রাম। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৬১ বলেই ফিফটি তুলে নেন সাদিকুর। তবে যেতে পারেননি বেশিদূর। ৮২ বলে আটটি চারে ৬২ রান করে ফেরেন রান আউট হয়ে।

জাতীয় লিগে রুহেলের চেয়ে ভালো বোলিংয়ের রেকর্ড আছে কেবল আব্দুর রাজ্জাকের। ২০১১ সালে বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯৩ রান খরচায় ১৫ উইকেট পেয়েছিলেন খুলনার অভিজ্ঞ এই স্পিনার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

চট্টগ্রাম—সিলেট

চট্টগ্রাম-১ম ইনিংস: ৩৫.১ ওভারে ১০৬/১০

এবং ২য় ইনিংস: ৫১.১ ওভারে ১৬৫/১০ (সাদিকুর ৬২, ইরফান ৬৬; রুহেল ৫/৩৯, রেজাউর ২/৫৩)

সিলেট-১ম ইনিংস: ৬৫ ওভারে ২৩০/১০ (অমিত ৫৫, কাপালী ৪১, গালিব ৪০, রাহাতুল ৩৯*; ইফরান ৬/৯৫)

এবং ২য় ইনিংস: ৫.৫ ওভারে ৪৫/১

ফল: সিলেট ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রুহেল মিয়া

বরিশাল—ঢাকা মেট্রো

বরিশাল-১ম ইনিংস: ১০৮.২ ওভারে ৪১৪/১০ (ফজলে রাব্বি ১৪১, মইন ৭৫, সালমান ৭২, নাফীস ৪৪, মনির ২৫, সোহাগ ২৩; তাসকিন ৪/৬৭, আসিফ হাসান ৩/১০৬)।

ঢাকা মেট্রো-১ম ইনিংস: ৬৯ ওভারে ২২৫/২ (সামসুর ব্যাটিং ৯০, মার্শাল ৮৫, রাকিন ২৩)।