মাটিয়াপাড়া-বাগেরভিটা সড়ক
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আট কিলোমিটার রাস্তায় ২০০৪ সালে গজারমারীতে এলজিইডি প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে একটি সেতু। রাস্তা নির্মাণ না করেই সেতু নির্মাণ করায় এটি কোনো কাজে আসছে না পথচারীদের। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তাটি তলিয়ে যায়। তখন নৌকায় পার হতে হয়। ফলে সেখানে নির্মিত সেতুটিও কাজে আসছে না।
দেখা গেছে, উপজেলার মাটিয়াপাড়া সিএনবি রোড থেকে সারিকালিনগর, গজারমারী হয়ে বাগেরভিটা বাজার পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তা। উপজেলার মাটিয়াপাড়া, সারিকালিনগর, বালুরচর, কালিনগর, নয়াপাড়া, দাড়িয়ারপাড়, কান্দুলী, কোচনিপাড়া, বাগেরভিটা ও কোনাগাঁও, আহম্মদনগর, কালিনগর, জরাকুড়া, পাইকুড়া ও ধানশাইলসহ ১৫টি গ্রামের শত শত মানুষ এ পথে যাতায়াত করে থাকেন।
কালিনগর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, সুমন মিয়া, তারা মিয়া, তুতা মিয়া, কোনাগাঁও গ্রামের লিটন মিয়া, মজনু মিয়াসহ গ্রামবাসী জানান, দেশ স্বাধীনের পর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এ রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি ওঠে।
ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তাটি নির্মাণের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তিনি এবং গ্রামবাসী জানান, রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে যেমন-তেমন প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাস্তাটি তলিয়ে যায়। এ সময় গ্রামবাসীর পারাপারে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এ সময় শত শত মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় নৌকা।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণ করা না হলেও ২০০৪ সালে এ রাস্তার গজারমারীতে এলজিইডির প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। রাস্তা নির্মাণ না করেই সেতু নির্মাণ করায় এটি কোনো কাজে আসছে না এলাকাবাসীর। বরং শুষ্ক মৌসুমেও সেতুটি গ্রামবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম এ ওয়ারেজ নাইম বলেন, এ রাস্তাটি সংস্কার সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের জন্য জেলা ও উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনাও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রস্তাবনাও প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। তিনি বলেন, এ রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে হাজারো পথচারীদের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐ রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। সাড়া পাওয়া গেলেই রাস্তাটি নির্মাণ করা হবে।