চীনপন্থি গোতাবায়া শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই। এই রাজাপক্ষে পরিবারের চীনাপন্থি বলে পরিচিতি রয়েছে। গৃহযুদ্ধের অবসানের পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পশ্চিমারা ও ভারত যখন শ্রীলঙ্কার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন দেশটির পাশে এসে দাঁড়ায় চীন। এরপর ভারত মহাসাগরে কৌশলগত দিক          থেকে গুরুত্বপূর্ণ দেশটিতে বন্দর, সড়ক, বিদ্যুেকন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে মাহিন্দা রাজাপক্ষের সময় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে চীন। যদিও এসব প্রকল্পের কারণে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে দেশটি। এরপরও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ক্ষমতায় রাজাপক্ষে পরিবারের ফেরায় চীনই লাভবান হবে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে গত শনিবার ভোট গ্রহণ হয়। এবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৩৫ জন, যা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড। যদিও নির্বাচনে দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রণসিংঘে প্রেমাদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমাদাসা। গতকাল শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করে। গোতাবায়া রাজাপক্ষে পেয়েছেন ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোট। যদিও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগে প্রকাশ্যে হার মেনে নেন প্রেমাদাসা। তিনি বলেন, ‘জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছি।’ জয় নিশ্চিতের পর এক টুইট বার্তায় গোতাবায়া রাজাপক্ষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শ্রীলঙ্কার প্রতিটি মানুষ এই যাত্রার অংশ। আজ সোমবারই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন।

শ্রীলঙ্কার ‘স্ট্রংম্যান’ হিসেবে পরিচিত গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব ছিলেন। এলটিটিইর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান হয় তার হাত ধরেই। জয়ের জন্য তার সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন অনেকে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেশকে জঙ্গি হুমকি থেকে নিরাপদ করার কথা জানান। গোতাবায়া চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও নির্বাচনে জয়ের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এদিকে দেশটির অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাভিরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় তিনি পদে থাকার ম্যান্ডেট হারিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের রায়কে মাথা পেতে নিচ্ছি এবং মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’