সুজানগরে কেজিপ্রতি দাম কমল ১০০ টাকা

দেশজুড়ে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবর মানুষের গা সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রেতাদের জন্য খানিকটা স্বস্তির খবর হচ্ছে, পাবনার সুজানগরে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৪ হাজার টাকা কমে গেছে। আকাশপথে শিগগিরই বিপুল পেঁয়াজ আমদানি হয়ে দেশে আসছে, এমন খবরে দাম পতনের আতঙ্কে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হবার আশা বাদ দিয়ে খানিকটা দাম কমিয়ে হলেও বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হবার পর বাঘায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বাড়ির ছাদ থেকে মজুত পেঁয়াজ জব্দ করেছে। তবে অনেক জেলায় এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন।

পাবনার ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, ‘পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের পরদিনই গতকাল রবিবার উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পেঁয়াজ ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত জেলার সুজানগরের হাটবাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে মণপ্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা। অর্থাত্ কেজিতে ১০০ টাকা। এছাড়া বাজারে কিছু কিছু আগাম আবাদ করা নতুন পেঁয়াজ ওঠার কারণেও দাম কমে যাবার পেছনে কাজ করেছে।

গতকাল সকালে সুজানগর পৌর বাজারে সরেজমিনে গেলে উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি বেলায়েত আলী সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার এই বাজারে প্রতি মণ পুরানো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু রবিবার (গতকাল) তা বিক্রি করেছি ৬ হাজার টাকা দরে। বাজারের আড়তদার রবিউল ইসলাম বলেন, বিমানযোগে পেঁয়াজ আমদানির খবর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। আমদানি হওয়া পেঁয়াজ যদি বাজার সয়লাব করে ফেলে তবে এখন যা পাবেন তার সিকিভাগ টাকাও ঘরে তোলা যাবে না। এই ভয়ে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা তাদের ঘরে মজুত রাখা পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। অথচ একদিন আগে শনিবারও দেখা গেছে, কোনো দোকানে পেঁয়াজ নেই!

বগুড়া থেকে আসা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, প্রতি বুধবার এবং রবিবার এই বাজার থেকে ৩০০/৪০০ মণ পেঁয়াজ কিনে ঢাকার শ্যামবাজার আড়তে  বিক্রি করে থাকি। এতে লাভও হয় বেশ ভালো। কিন্তু বিমানযোগে পেঁয়াজ আমদানির খবর শুনে ঢাকার বাজারে দাম কি পরিমাণ কমবে এই হিসাবনিকাশ মিলাতে না পেরে পেঁয়াজ তেমন একটা কিনছি না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ময়নুল হক সরকার বলেন, এক দেড় সপ্তাহের মধ্যেই আগাম আবাদ করা মূলকাটা পেঁয়াজ প্রচুর পরিমাণে বাজারে উঠবে। তখন দাম একেবারে পড়ে যাবে।

এদিকে, জয়পুরহাটে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি রোধকল্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পাঁচটি দোকানকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে গতকাল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বর্তমানে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত  বিক্রি হচ্ছে। দোকানে মূল্যতালিকা না থাকা ও মূল্যতালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের সঙ্গে  বিক্রি মূল্যের মিল না থাকায় ভোক্তা অধিকার  সংরক্ষণ আইনে তাদের জরিমানা করা হয়। 

অপরদিকে, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ বগুড়া শহর কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত  হয়।

এর বাইরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলামের নির্দেশে শিবগঞ্জ বাজারে পাঁচটি আড়তে মজুতকৃত ৪০ টন পেঁয়াজ ১৪০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়েছে। ফলে খুচরায় দাম নেমেছে ১৫০ টাকায়। জানা গেছে, শিবগঞ্জ বাজারে পেঁয়াজের আড়তদার শফিকুল ইসলাম তাজেল মেম্বার, আজিজুল হক, নাসিরুল হক, জোহরুল ও আব্দুল লতিফ তাদের গুদামে প্রায় ৪০ টন পেঁয়াজ মজুত রেখেছে বলে শনিবার সন্ধ্যায় জানতে পারে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ।

এদিকে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ব্যবসায়ীদের বাড়িতে পেঁয়াজের গুদাম থাকার কথা গণমাধ্যমে আসার পর পেঁয়াজ মজুতদারদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ অভিযানে  উপজেলার বাউসা  এলাকার সুভাসচন্দ  নামে এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদ থেকে ১৫ মণ পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার জন্য সিলেটের জৈন্তাপুরে ভারতীয় চোরাইপথে আনা পেঁয়াজ বোঝাই ডিআই ট্রাক গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই জন গুরুতর আহত হন। জানা গেছে, চোরাই পেঁয়াজ নিয়ে দ্রুতগতিতে জৈন্তাপুর হতে সিলেটে যাওয়ার পথে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর ৭ নম্বর গ্যাসকূপ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনায় পতিত হয় ট্রাকটি।

এর বাইরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পেঁয়াজ মজুত ও বেশি দামে বিক্রি করার তথ্য জানিয়েছেন সংবাদদাতারা।