রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রোগীদের পথ্য সরবরাহে ইচ্ছেমতো ঠিকাদার নির্বাচনের অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ও দরপত্র কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার নাটোরের ঠিকাদার এমদাদুল হক মহানগর যুগ্ম জজ আদালতে তৃতীয় মামলাটি করেন। মহানগর যুগ্ম জজ জয়ন্তী রানী দাস মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, এরআগে রাজশাহীর ঠিকাদার মো. সুমন প্রথম এবং পাবনার আরজেডএস এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর রাশেদুজ্জামান দ্বিতীয় মামলা করেন। তিনটি মামলার শুনানির তারিখ আগামী বছরের জানুয়ারিতে ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে ঠিকাদার এমদাদুল হক অভিযোগ করেন আটটি গ্রুপের পথ্যের মধ্যে চারটি গ্রুপের দরপত্র খোলা হয় প্রকাশ্যে। কিন্তু অপর চারটি গ্রুপের দরপত্র খোলা হয় গোপনে। গোপনে মাছ, দুধ, স্টেশনারি ও বিবিধ পথ্যের দরপত্র খোলা হয়। যারা কাজ পেয়েছেন, তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কে কত দর দিয়েছেন, তা অন্যদের জানানো হয়নি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রেশন গ্রুপে শাহাবুদ্দিন হলুদের দর দিয়েছেন প্রতি কেজি ৫৮ টাকা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৭০ টাকা দরদাতাকেও কার্যাদেশ দেয়নি। তবে ২২৫ টাকা দরদাতা আজাদ আলীকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। জিরা প্রতি কেজি ১২০ টাকা দর দেন শাহাবুদ্দিন। কিন্তু সরবরাহের (কার্যাদেশ) কাগজে তাকে দর উল্লেখ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আটটি গ্রুপে মোট ৩৮ আইটেমের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদাররা এতে অংশ নিয়ে সরবরাহ করতে দরপত্র জমা দেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর দরপত্র বাক্স খোলা হয়। ২৬ অক্টোবর ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কার্যাদেশ হাতে পাওয়ার পর ধরা পড়ে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতি। সর্বনিম্ন ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে উচ্চ দরদাতা পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এমদাদুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইয়াহিয়া জানান, অনিয়ম করে সরবরাহকারী নিয়োগ করায় একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ লোকসান হবে। অন্যদিকে, তার মক্কেল ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ কারণে তিনি ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, তারা আদালতেই মামলার বিষয়গুলো মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।