দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছেন, দুদক গত চার বছরে বিভিন্ন দুর্নীতিতে ১৬৫টি ব্যাংক হিসাবের ২০১.৭৭ মিলিয়ন বা ২০.১৮ কোটি টাকা জব্দ করেছে। একই সময়ে ক্রোক করা হয়েছে ২১টি ভবন, ২৪টি ফ্ল্যাট, ৭৭ একর জমি ও পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি। এছাড়া দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্তকৃত ৫৮৪.৪৬ কোটি টাকার সম্পদ পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর প্রিভেনশন অব মানিলন্ডারিং অ্যান্ড কমব্যাটিং ফিন্যান্সিং অব টেরিরিজম ২০১৯-২০২১’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির প্রমুখ।
সভায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড়ো হুমকি। দুদক অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দুর্নীতিকেই মানিলন্ডারিংয়ের সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মিউচুয়াল লিগ্যাল রিকয়েস্ট অ্যাসিসটেন্সের মাধ্যমে দুটি মানিলন্ডারিং মামলায় ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার এবং ০.৮০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড যথাক্রমে হংকং ও ব্রিটেনে জব্দ করা হয়েছে। এ অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগেও ২.০৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার এবং ০.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুনরুদ্ধার করে দেশে আনা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর সংস্কার প্রস্তাব করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি আরো কার্যকর হবে যদি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংস্থার কিছু কর্মকর্তাকে এই কর্ম প্রয়াসে সম্পৃক্ত করা হয়।