বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় দুর্ভোগে তীরবর্তী মানুষ

কাঠালিয়া-রগুয়ারচর এলাকা

মো. আবদুল হালিম, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়ার বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় নদী তীরবর্তী গ্রামের জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা ও বুলবুলসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রতিবছরই ক্ষতির সম্মুখীন হয় কাঠালিয়া। উপজেলা প্রকল্প অফিসের হিসেব অনুযায়ী এবারের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ বিষখালী নদীর কাঠালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার ৫ কি. মি. বাঁধ ভেঙে গেছে।

জানা গেছে, বেড়িবাঁধ না থাকায় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে এ উপজেলায় ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। ২০১৮ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। এছাড়া নিয়মিত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে দশ হাজার হেক্টর জমি।

স্থানীয় জেলে মিরন জোমাদ্দার বলেন, বইন্যার (সিডর) সময় গলা পর্যন্ত পানিতে মোগো ঘর দরজা গরু-বাছুর সব ভাসাইয়্যা লইয়্যা গ্যাছে।

কচুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা পরিষদ সদস্য এসএম আমিরুল ইসলাম লিটন বলেন, আমুয়া থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না হওয়ায় আমরা বন্যার সময় খুবই অসহায় অবস্থার সম্মুখীন হই।

কাঠালিয়া-রাজাপুর উপজেলা নাগরিক মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু সিকদার বলেন, আমাদের আবেদনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অনুরোধ জানান।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাঁধ না থাকায় প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে বিষখালী নদীর পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আবাদী জমি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন জানান, বিষখালী নদীর পশ্চিম পাড়ের কাঠালিয়া থেকে রগুয়ারচর পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নেই। এতে উপজেলা পরিষদ হুমকির মুখে পড়বে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি এ বেড়িবাঁধ নির্মাণের।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ বজলুল হক হারুন বলেন, পোল্ডারসহ বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পত্র প্রেরণ করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. আতাউর রহমান জানান, বিষখালী নদীর পশ্চিম পাড় কাঠালিয়া-রগুয়ারচর এলাকায় বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন। বেড়িবাঁধের প্রকল্প দেওয়া আছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা যাবে।