ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তিত পৃথিবীতে প্রযুক্তি উপযোগী দক্ষ জনসম্পদ অপরিহার্য। প্রযুক্তি উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত তৈরি হবে না। তিনি বলেন, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাল বিশ্বে চাকরির জন্য অকার্যকর। প্রযুক্তির রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে। এ ব্যাপারে প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী সম্প্রতি ঢাকায় ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি আয়োজিত স্টুডেন্ট এলামনাই কংগ্রেস ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বড় সম্পদ হচ্ছে মানব সম্পদ। দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তির রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারলে তাদের বোঝাবহন সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। বিদ্যমান প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে সন্তানদের প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিকল্প নাই। সামনের পৃথিবীতে সৃজনশীল মানুষের সংখ্যা বাড়াতেই হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। ইন্টারনেট মানব সভ্যতার নতুন সুযোগ। ইন্টরনেটের সাথে আইওটি, বিগডাটা, এআই এবং কুয়ান্টাম কম্পিউটিং সংযুক্ত হওয়ার ফলে আগামি পাঁচ বছর পরের পৃথিবী হবে অবর্ণনীয়। তিনি এই ব্যাপারে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মোস্তফা জব্বার বলেন, পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক কিংবা আইওটি অথবা কুয়ান্টাম কম্পিউটিং যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রযুক্তির জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। ২০২১ সালে বাংলাদেশে ফাইভজি চালু করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রযুক্তি ফেসবুক বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য কিংবা মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য নয়। ফাইভজি হচ্ছে ডিজিটাল সুপার হাইওয়ে। ফাইভ জি দিয়ে রোবটিক, এআই কাজ করবে বলে উলেস্নখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক এডভাইসর প্রফেসর ড. ফকরে হাসান বক্তৃতা করেন।