পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন অবৈধ নয় :যুক্তরাষ্ট্র

বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও

শান্তির ক্ষেত্রে এটি বড়ো

ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে

পারে : ফিলিস্তিন

বিবিসি

ইসরাইলের দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর নিয়ে অবস্থান পালটে সেখানে তেল আবিবের বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন অবৈধ নয়।

দখলকৃত ঐ এলাকাটি নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের দর-কষাকষির সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন পম্পেও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। এর মাধ্যমে দখলকৃত অঞ্চলে তেল আবিবের বসতি স্থাপন নিয়ে ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার পুরোপুরি বিপরীতধর্মী অবস্থান নিলেন। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরাইল আরব দেশগুলোর যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছিল, সেখানে তারা একের পর এক আবাসিক এলাকা তৈরি করছে; এগুলোকেই ‘বসতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরোধও দীর্ঘদিনের। ‘সব পক্ষের আইনি যুক্তি সাবধানতার সঙ্গে পর্যালোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, পশ্চিম তীরে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ইসরাইল যে বসতি স্থাপন করছে, আদতে তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়,’ সাংবাদিকদের বলেছেন পম্পেও। ‘বেসামরিক নাগরিকদের বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলাটা কাজে দেয়নি; এটি শান্তির দিকে অগ্রগতিতে ভূমিকাও রাখেনি,’ বলেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত ‘বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শান্তির’ ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরাকাত। নতুন এ মার্কিন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনকে ‘জঙ্গলের আইনে’ প্রতিস্থাপনের হুমকিতে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বদল ‘ঐতিহাসিক ভুলকে ঠিক করেছে’। তিনি অন্যান্য দেশকেও যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত এলাকাগুলোতে ১৪০টির মতো বসতি স্থাপন করেছে তেল আবিব; এসব বসতিতে ৬ লাখের মতো ইহুদি বসবাস করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে তেল আবিবের এ বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে দেখা হলেও ইসরাইল শুরু থেকেই তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। যে ভবিষ্যত্ স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে আসছে ফিলিস্তিনিরা, এসব বসতিকে তার পথে উল্লেখযোগ্য বড়ো বাধা উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরেই এসব বসতি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।