‘কর’ সম্পদকে বৈধতা দেয় জীবনে স্বচ্ছতা আনে

অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক খান রানা

রাষ্ট্র ও নাগরিকের জন্য ‘কর’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারের আয়ের অন্যতম উত্স হলো ‘কর’। জনগণ সরকারকে যে কর দেয় বা সরকার জনগণের কাছ থেকে যে কর আদায় করে, তা দিয়ে ঐ দেশের সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা, নানা প্রকার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে থাকে। যেমন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা ধরনের সেবা। কাজেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে সেবা পেতে যথাসময়ে যথাযথভাবে কর প্রদান করাও প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রতিটি দেশের প্রত্যেক নাগরিকই কোনো না কোনোভাবে কর দিয়ে থাকেন। যেমন প্রত্যেক নাগরিকই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহার করে থাকে। বাড়ির ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিস ব্যবহার বা ভোগ করতে গিয়ে প্রত্যেক নাগরিককে কর দিতে হয়। কর দেওয়ার বিষয়টি হয়তো অনেকে বুঝতেও পারেন না। কর প্রদানের মাধ্যমে সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত হয়। সম্পদের অধিকারীদের মনে আসে প্রশান্তি। কর নাগরিকের জীবনে স্বচ্ছতা এনে দেয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে কর প্রদানের ব্যাপারে অনেকটা অনাগ্রহ লক্ষ করা যায়। এই অনাগ্রহের একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা এবং কর প্রদান করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও হয়রানির আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য কারণ বলে আমার ধারণা। আসলে কর প্রদান নিয়ে জটিলতা বা আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কর প্রদানও একধরনের অভ্যাসের মতোই। নিয়মিত কর দিলে তা সহনশীল ও অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। কর দিতে শুরু করলেই তা স্বাভাবিক কর্মধারায় পরিণত হবে।

‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ এবং ‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে করসেবা প্রদান ও কর সচেতনতা বাড়াতে এবারের আয়কর মেলার আয়োজন।

আয়কর মেলার মাধ্যমে কর সংস্কৃতির বিকাশ ও কর সচেতনতা বাড়ছে। করদাতাদের আস্থা ও আগ্রহ বাড়ছে। ফলে করদাতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে আয়কর মেলা। সরকারের লক্ষমাত্র পূরণ না হলেও মাুনষের মধ্যে আয়কর দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এটা খবই আশার কথা। সে কারণেই তো মেলার পরিধি বেড়েছে। করদাতাবান্ধব পরিবেশের মধ্য দিয়ে মেলা অতিবাহিত হচ্ছে। সঠিক পরিমাণ আয়কর আহরণ কেবল সরকারের রাজস্ব তহবিল বাড়ানোর জন্য নয়, সম্পদের সুসম বণ্টন, সামাজিক সুবিচার, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও অঞ্চলগত উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। করদাতারা দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণে আগ্রহী, তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে করমেলায় করদাতাদের ভিড়। তবে অনেকেই ঝামেলামুক্ত উপায়ে কর দিতে চান। করদাতাদের সেই আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে আয়কর সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে তার বাস্তবায়নটার দিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে আয়কর ফাঁকির কোনো ক্ষমা নেই।

একজন আয়কর আইনজীবী হিসেবে আমার আহ্বান—আসুন, আমরা নিজে কর দিই এবং অন্যকে কর দিতে অনুপ্রাণিত ও সহযোগিতা করি। সময়মতো সঠিক পরিমাণ কর দিয়ে সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত করি। সরকারের হাতকে শক্তিশালী করি এবং দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করি।

n লেখক :আয়কর আইনজীবী