গরুর দুধে শিশুর এলার্জি হতে পারে

ডা. সঞ্চিতা বর্মন

গরুর দুধে প্রায় ২০ ধরনের প্রোটিন আছে, যার মধ্যে পাঁচটি বেশি এলার্জি সৃষ্টি করে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই এই এলার্জি দেখা যায়। এটি জন্মের পর পর বোঝা যায় না। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ ছেড়ে যখন গরুর দুধে অভ্যাস করা হয় তখন এই এলার্জি ধরা পড়ে। সে কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুর দুই থেকে তিন বছর বয়সের দিকে এই এলার্জি ধরা পড়ে। এসব শিশু শুধু গরুর দুধেই নয়, দুধের তৈরি যে কোনো খাবারেই এলার্জি হতে পারে। গোদুগ্ধ এলার্জির প্রায় ৮০ শতাংশ হলো তীব্র মাত্রার। এই ক্ষেত্রে রক্তে আই জি-ইর মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। এলার্জি হওয়ার লক্ষণগুলো হলো বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, শরীরে র্যাশ, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা। এই এলার্জি সম্পর্কে পূর্বে জানা না থাকলে অনেক সময় শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই শিশুর প্রথম বছরে গরুর দুধ ও দুধের তৈরি খাবার পরিহার করতে হবে। যদি দুধ খাবার পর কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায় চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। গরুর দুধে শিশুর এলার্জি থাকলে এর পরিবর্তে মাছ, মাংস, ডিম, সয়া, ডাল ইত্যাদি খাবার দিতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে।

লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ