সস্তায় দূষিত বাতাস পরিশোধনের কৌশল

ইটভাটা, গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং কয়লা পোড়ানোর কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বায়ুদূষণ। কার্বন ডাইঅক্সাইডে মারাত্মক বিষাক্ত হয়ে পড়ছে বাতাস। বিষাক্ত বাতাসের কারণে বিশ্বে মৃত্যুহারও বেড়েছে। বিশ্বে যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তার মধ্যে বায়ুদূষণ রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তবে এবার এই বিষাক্ত বাতাসকে খুব সস্তায় পরিশোধনের কৌশল উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’-এর গবেষণাপত্র এই কৌশলের কথা জানানো হয়েছে। মূলত এক ধরনের ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটকের সাহায্যেই বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইডকে ভেঙে ফেলে দূষিত বাতাস পরিশোধনের কৌশল খুঁজে বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটক হচ্ছে এমন এক উপাদান যা কখনো বিক্রিয়ায়                অংশ না নিয়ে বিক্রিয়ার সময় হ্রাস-বৃদ্ধি করে থাকে। বাতাসে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বের করে আনলেই হবে না, সেটিকে নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতও করতে হবে। মূলত বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড অনু ভেঙে দিয়ে বিষ থেকে অন্য কিছুতেই পরিণত করা হবে। সেটিকে এমন কিছুতেই পরিণত করতে হবে যা আমাদের প্রত্যহিক জীবনেও কাজে লাগানো যাবে।

এই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের একটি অণু তৈরি হয় একটি কার্বন পরমাণু আর দুটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে। আর সেই কার্বন পরমাণুর সঙ্গে অক্সিজেন পর পরমাণু দুটির বন্ধন (বন্ড) এতই শক্তিশালী যে, কার্বন ডাইঅক্সাইড অণুকে ভাঙার কাজটা মোটেই সহজ নয়। বহু দিন ধরেই সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা। সেই কঠিন কাজটা এতদিন করা হচ্ছিল একটি তড়িত্-রাসায়নিক (ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল) পদ্ধতিতে। যে প্ল্যাটিনাম অনুঘটক দিয়ে এতদিন কার্বন ডাইঅক্সাইড অণু ভাঙার কাজ করা হচ্ছিল সেই প্ল্যাটিনাম খুবই দামি। নতুন গবেষণায় সেই কাজটাই করা যাবে খুব সহজে। আরো দ্রুত। অনেক কম খরচে। শুধু তাই নয়, যে ব্যাটারির মাধ্যমে সেটা করা হবে তার আয়ুও হবে অনেক বেশি।

‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স’-এর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন গবেষণায় অনুঘটক বানানো হয়েছে নিকেল আর লোহার অক্সাইড কার্বোনেট একটি যৌগ দিয়ে। যার মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র আছে। তার মধ্যে দিয়ে বিষে ভরা বাতাস গেলে তা বিষ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসকে টেনে নিয়ে তাকে ভেঙে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে বদলে দেবে।—আনন্দবাজার